রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ভয়াবহ আগুনে তিনটি দোকান, দুইটি ফার্ণিচার কারখানাসহ ৭০টির অধিক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫৫টি পরিবার। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। বুধবার রাত পৌনে একটার দিকে উপজেলার মাইনীমূখ বাজার ঢাকাইয়াটিলা এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, বুধরাতে স্বাভাবিক নিয়মে এলাকার লোকজন ঘুমিয়ে পড়েছিলো। কিন্তু রাত পৌনে একটায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে তিনটি দোকান, দুইটি ফার্ণিচার কারখানাসহ ৭০টির অধিক বসতঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেড় শতাধিক পরিবার। আগুনের ঘটনার দেড় ঘন্টা পর প্রতিবেশি জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসে। এর আগে থেকেই আগুন নেভাতে চেষ্টা চালায় এলাকাবাসী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। পরে তিন ঘন্টা যৌথ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ততক্ষণে পুড়ে ছাই পুরো এলাকাটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, লংগদুতে ফায়ার স্টেশনের অনুমোদন হওয়া সত্ত্বেও নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় তারা এই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, লংগদু ফায়ার স্টেশনের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়িটি রাঙামাটি ফায়ার স্টেশনে পড়ে আছে। অন্যদিকে রাঙামাটিতে রিভার স্টেশনের (নৌ-ফায়ার স্টেশন) ব্যবস্থা থাকলে হয়ত আরও আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো। কমিয়ে আসতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রবীর কুমার রায় জানিয়েছেন, ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ৭০টির অধিক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় দেড়শ’ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা। ইউএনও আরও জানান, আমরা ধারণা করছি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিকভাবে বুধবার বিকালের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ কেজি করে চালসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
এদিকে বুধবার রাতেই আগুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লংগদু সেনা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিরাজ হায়দার চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রবীর কুমার রায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মো. জানে আলম, লংগদু থানার ওসি রঞ্জন কুমার সামন্তসহ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা।

