জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নির্বাচনকে নিয়ে নানা ধরনের কৌশল অপকৌশল অবলম্বন করছে অনেকেই। কেউ কেউ চায় নিজে জয়ী হতে; আবার অনেকের চিন্তার ভাঁজ কীভাবে অন্যকে বাদ দেয়া যায় ক্রীড়া সংস্থা থেকে। নির্বাচনের চার দিন বাকী থাকতেই সকল ভোটেরদের ঠিকানায় ডাকযোগে পৌছে যাচ্ছে একটি প্যানেলের চিঠি! চিঠিতে দেখা যায়- রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার (২০১৮-২০২২) সালের নির্বাচনে সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ নামে একটি প্যানেল।
প্যানেলে সহসভাপতি পদে রয়েছে তিন জন- তারা হলেন আকবর হোসেন চৌধুরী, মামুনুর রশিদ, প্রীতম রায়। সাধারণ সম্পাদকে শফিউল আজম, সহসাধারণ সম্পাদকে নিভানন চাকমা, কোষাধ্যক্ষে মনিরুল ইসলাম। সদস্যে সাত জন, তারা হলেন- শাহ আলম, আহম্মদ ফজলুর সেলিম, আবু তৈয়ব, মো: তৌহিদুল আলম মামুন, আশীষ কুমার চাকমা, তাপস কুমার চাকমা, জয়জিৎ খীসা। যদিও বা সদস্য পদে নির্বাচিত হবেন চৌদ্দ জন।
এমন প্যানেল নিয়ে বিব্রত অনেকেই- এমনি প্যানেলে যাদের নাম আছে তারা অনেকেও অবাক এই প্যানেল দেখে। এমন চিঠি কে দিলো তার খোঁজ করছে সবাই; কিন্তু প্যানেল বা চিঠি দাতাকে খুঁজে পাচ্ছে না কেউ! যাদের নাম প্যানেলে আছে তারাই বেশী বিব্রত বোধ করছে দল বেঁধে সঙ্গী হয়ে ভোট চাইতে যাচ্ছেন, কিন্তু প্যানেলে কারো নাম আছে কারো নাম নাই এ নিয়ে চিন্তায় ভূগছে সবাই। নির্বাচনের আগে এমন প্যানেল করাকে অবশ্য অনেকে নির্বাচনী অপকৌশল বা নোংরামী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এ বিষয়ে সহসভাপতি পদপ্রার্থী আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোন প্যানেলের খবর আমি জানিও না, কে বা কারা এমনটি করেছে তা আমার বোধগম্য হচ্ছে।’
প্যানেলে নাম আছে এমন সদস্য প্রার্থী আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমার কপালে চিন্তার ভাঁজ কারা এমনটি করল। তারা নিশ্চয়ই আমাদের ভালোর জন্য কাজটি করেনি; তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে।’
এ বিষয়ে সহসভাপতি পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘ডিএসএ নির্বাচনে এমন নোংরামী হবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না। একটি কুচক্রী মহল আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করার জন্য এমনটি করছে। এমন প্যানেল করে আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করতে পারবে না কেউ।’
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এ প্যানেলে আছন আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনে অবাক হয়েছি কে এমনটি করল? বুঝতেই পারছি না কে কেন এমনটি করল। তবে ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে যে কাজটি করেনি তা আমি নিশ্চিত।’
এ বিষয়ে প্যানেলে নেই সহসভাপতি পদপ্রার্থী সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘এমন কাজটি যারা করেছে তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় বিভেদ এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজটি করেছে। যদিওবা তারা কোনভাবেই সফল হবে না।’
বরুন বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘নির্বাচন করার আছে সবাই করবে; কিন্তু এমন প্যানেল করে নোংরামী করার কোনো মানে হয় না। আমি মনেকরি যারা কাজটি করেছে, তারা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো চায় না।’
উল্লেখ্য যে, সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদের নামে চিঠিতে প্রার্থীর নাম পদের নাম প্রতীকের নাম দিয়ে দেয়া চিঠিতে কারা এমনটি করেছে তাদের কোন খোঁজ মিলছে না। প্যানেলে যারা আছেন বা প্যানেলের বাহিরে আছেন অনেক খোঁজ করছেন কার এমনটি করল। ঐক্য পরিষদের চিঠিটিতে প্রেরকের নাম না দিয়ে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে উক্ত প্যানেলে সবাই ভোট দেয়ার জন্য আহবান জানান।