অবশেষে দীর্ঘ ৩ বছর পর বান্দরবানে বিএনপির ৩ নেতার বহিষ্কাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এই ৩ নেতা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজি মুহিতুল হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম ও জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান মিটন। তিন জনই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী সমর্থিত।
বৃহস্পতিবার এই তিন নেতার বহিষ্কাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর জেরী গ্রুপের নেতা কর্মীদের মধ্যে আনন্দ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দলীয় শৃখলা ভঙ্গের দায়ে ২০১৫ সালে জেলা বিএনপি থেকে এই ৩ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময় দলের পৌর মেয়র প্রার্থী জাবেদ রেজার বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেন।
দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বান্দরবান বিএনপিতে দীর্ঘদিন থেকে জেরী ও মাম্যাচিং গ্রুপ সক্রিয়। নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে ১৯৯৬ সাল থেকে বান্দরবান সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়ে আসছে। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বান্দরবানে বিএনপির দুটি গ্রুপ থেকে মোট ১২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জেরী গ্রুপের পক্ষে ১০ জন ও মাম্যাচিং গ্রুপ ২ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। এরা হলেন, জেলা বিএনপির সভানেত্রী মাম্যাচিং, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাচিং প্রু জেরী, সহ সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দছ, সহ সভাপতি লুসাই মং মারমা, সহ সভাপতি আমির হোসেন আমু, লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোইনু অং মারমা, খামলাই, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান (অপসারিত) তোফায়েল আহম্মদ ও চট্রগ্রাম মহানগর বিএনপির স্বাস্থ্য যুব বিষয়ক সম্পাদক সরোয়ার আলম, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নিরুতাজ বেগম, মহিলা দলের নেত্রী উম্মে কুলসুম লীনা ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কাজি মুহিতুল হোসেন।
এদের মধ্যে মাম্যাচিং, জাবেদ রেজা একই গ্রুপের হলেও অন্যরা সবাই সাচিং প্রু জেরীপন্থি।
এছাড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা কমিটির সহ সভাপতি আবদুল কুদ্দুস ও মহিলা দলের সভানেত্রী নিরুতাজ বেগম সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী। এরা দুজনেই মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের এ সময়ে ৩ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় দীর্ঘদিনের বিএনপির অন্তঃদ্বন্দ্ব আরো চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর জেরী শিবিরে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম জানান, কেন তাদের ৩ বছর আগে বহিষ্কার করা হয়েছিল তা এখনো অজানা। তবে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় এখন তারা দলের জন্য আরো ভালভাবে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া দল যাকে মনোনয়ন দেবে সেই প্রার্থীর পক্ষেই আমরা সবাই কাজ করবো।
