পার্বত্য চট্টগ্রামের অব্যবহৃত পাহাড়ি জমিসমূহে বাঁশ চাষের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার ৪ হাজারের অধিক প্রান্তিক নারীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আয়বর্ধক কর্মসূিচ হিসাবে উন্নত জাতের বাঁশ উৎপাদন প্রকল্পের নামে ৫ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্প হিসাবে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ২৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাঁশ চাষের উন্নয়ন এবং বাঁশ চাষের আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এর পাশাপাশি বাঁশ বাগান সৃজনের মাধ্যমে মাটির ক্ষয় রোধ এবং পাহাড় ও ভূমিধস রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প পরিচালক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মো. শাহিনুল ইসলাম জানান, ‘এ প্রকল্প নেয়ার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঁশ চাষের সম্ভাবনার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। এখানকার মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ বাঁশ চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। তাছাড়া এখানে উৎপাদিত বাঁশের চাহিদাও ব্যাপক। সেদিকে বিবেচনা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার নির্দেশনায় এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসাবে এখানকার নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।’
তিনি প্রকল্পের কাক্সিক্ষত উদ্দেশ্যের বিষয়ে জানান, প্রকল্পের আওতায় আমরা আশা করি, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এর তিন পার্বত্য জেলায় ১৩ হাজার বাঁশ বাগান সৃজিত হবে । এর ফলে সৃজিত বাঁশ বাগানের বাঁশ গুলো বিক্রি করে বাঁশ চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। পাশাপাশি এসব বাঁশকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০ টি করে বাঁশ ভিত্তিক ক্ষুদ্র কুটির শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা হবে।’
‘প্রকল্পের আওতায় উপকার ভোগীদের বাঁশ চাষ পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রমের পাশাপাশি উপকারভোগীদের প্রত্যেককে ৫ প্রজাতির ২৮ লক্ষ ৬০ হাজারটি বাঁশের চারা বিতরণ করা হচ্ছে।’- যোগ করেন তিনি।
প্রকল্পের উপকার ভোগী কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, তাদের নিজস্ব অনেক অনাবাদী পাহাড় রয়ে গেছে, যেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব জায়গায় বাঁশ চাষ করে জমি গুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে পারছে তারা। এর মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা (এনডিসি) বাঁশ প্রকল্পের বিষয়ে জানান, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এখন বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলার প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পরে সফলতা এখানকার জনগনের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। এখানে বাঁশ চাষের সম্ভাবনার বিষয়টি গবেষণায় উঠে আসার পর আমরা পাইলট প্রকল্প হিসাবে ছোট পরিসরে এই বাঁশ চাষ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছি। এখানে সফলতা আসলে ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো হবে।’