বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২নং বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদকে বিভক্তকরণ ও নতুন পরিষদ নামকরণ নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার সময় বাইশারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বরইরচর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. আলমের সভাপতিত্বে এ সভায় অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজ সেবক মাওলানা হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ হইতে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড গুলো অনেক দূরে হওয়ায় তাদের প্রশাসনিক কার্যাক্রম চালাতে অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ৩টি ওয়ার্ডের জনসাধারণ দৈনন্দিন পরিষদের কাজকর্ম সারাতে এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজসহ নানা ধরনের প্রশাসনিক কাজ চোখে পড়ার মত নয়।
এতে আরও বক্তব্য দেন, ঈদগড় ২৮৩ নং মৌজা হেডম্যান থোয়াইহ্লাঅং মার্মা। তিনি বলেন, ২৮১ নং কোয়াইঝিরি মৌজা, ২৮০ নং আলীক্ষ্যং মৌজা, ২৮৩ নং ঈদগড় মৌজার নিয়ে বরইরচর ইউনিয়ন পরিষদ নামে একটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়ন করার জন্য ২০০১ সালে তৎকালীন পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। এ প্রস্তাবটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় পাশ করা হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুল আমিন বরইরচর ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর সুপারিশ সহকারে প্রতিবেদন দাখিল করেন বলেও তিনি জানান।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মদ্যে বক্তব্য রাখেন, বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা আজগার আলী, হেডম্যান মংথোয়াইহ্লা মার্মা, হেডম্যান তংপ্রে ¤্রাে, সাংবাদিক আব্দুর রশিদ, ইউনিয়ন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ আলম, ব্যবসায়ী নুরুল হুদা প্রমুখ। এ সভায় ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের জনসাধারণ ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সদর থেকে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের দূরত্ব প্রায় ২০ কি.মি.। তাও আবার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে বর্তমান পরিষদে এসে কার্যক্রম চালানো কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে যেতে মাঝখানে রামু থানার ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই ৩টি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ আলাদা। এ এলাকায় মোটসংখ্যা জনসাধারণ রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার মত। ভোটার সংখ্যা রয়েছে পৌনে পাঁচ হাজার মত। ভৌগোলিকভাবে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ যদি হয় এলাকায় অনেক পরিবর্তন হবে বলে স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান। পাশাপাশি তের হাজার পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবি পূরণ হবে বলেও তিনি জানান।
