জিয়াউল জিয়া ॥
দীর্ঘ ১০৭দিন পর চিরচেনা রূপে ফিরেছে জেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ শুরু হওয়ার পর জেলেদের আহরণকৃত মাছ ছোট ছোট বোটে করে নিয়ে আসছে বিএফডিসি’র অবতরণ ঘাটে। প্রথম দিনের মাছের আকার ছোট হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। প্রথম ৪ ঘন্টায় ৩৫ মে. টন মাছ আহরণ হয়েছে।
দীর্ঘদিন পর অবতরণ ঘাটটিতে এখন ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্যতা। শ্রমিকরা ব্যস্ত একের পর এক বরফ ভাঙ্গতে। অবতরণকৃত মাছ সরকারি রাজস্ব মিটিয়ে ড্রামে প্যাকিং শেষে ট্রাকে তুলে দেয়া হচ্ছে। যার গন্তব্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ব্যবসায়ী, শ্রমিকদের হাঁকডাকে চির চেনা রূপে ফিরেছে ঘাটটি।
মধু সেন দাস ও বিমল দাস জানান, দীর্ঘদিন বেকার সময় কেটেছে। অনেক সময় তিন বেলা খেতে পারিনি। বউ বাচ্চা নিয়ে কষ্টে দিন কেটেছে। মাছ ধরা খুলে দিয়েছে আমারও হ্রদে মাছ শিকারে নেমেছি। এখন পর্যন্ত ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা জেলেরা খুবই খুশি। তবে চাপিলা মাছটি এবার আকারে কিছুটা ছোট।
প্রথমদিনেই কাচকি, চাপিলার আধিক্য ছিল সবচে বেশি। মাছ আকারে ছোট হওয়ার হতাশ ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে দীর্ঘ সাড়ে তিনমাস বেকার সময় কাটিয়ে কাজে ফিরে খুশি শ্রমিকরা।
মাছ ব্যবসায়ী মো. মাহফুজ উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন পর ব্যবসা শুরু করলেও মাছের আকার ছোট থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এই মাছ ঢাকায় বিক্রি করতো পারবো কিনা জানি না। আমাদের দাবি ছিল আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার। তাহলে এই মাছের আকার আরও বড় হতো। আমরা লাভবান হতাম। অন্য আরেক ব্যবসায়ী তারেক মাসুদ জানান, প্রচুর মাছ আসছে ঘাটে কিন্তু মাছের আকার ছোট। এই মাছ বিক্রি করা কঠিন হবে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে জালে ছোট মাছ বেশি আসে। কয়েকদিন পর এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। হতাশ হওয়ার কিছুই নাই। প্রথমদিনের মতো এভাবে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে গত বছরের চেয়ে রাজস্ব আয় বেশি হবে বলে আশাবাদ বিএফডিসি কর্তৃপক্ষের।
কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য প্রতিবছর পহেলা মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। তবে পানি কম থাকায় নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয় আরো দুইদফায় ১৭ দিন। তবে বিলম্বে হলেও মাছ ধরা শুরু হওয়ায় খুশি জেলেরা। বিএফডিসি সূত্র মতে, গত বছর কাপ্তাই হ্রদ হতে ১৭হাজার ৮৭০ মে. টন. মৎস্য আহরিত হয়, সেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রায়। ২০২২ সালে হ্রদে ৬০ মে.টন পোনা অবমুক্ত করা হয়।
