মুফিজুল হক, নাইক্ষ্যংছড়ি ॥
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদের পর বন্ধ রয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ। এতে করে সীমান্তবাসী মানুষদের সাময়িক আতংক কমলেও পুরোপুরি আতংক কাটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রবিবার থেকে সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। তবে রবিবার দুপুরে একটি হেলিকপ্টারকে সীমান্তের ওপারে টহল দিতে দেখেছেন স্থানীয়রা। ইতিপূর্বে গত শনিবার মিয়ানমারের যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া দুটি গোলা পড়ে ঘুমধুমের তুমব্রু এলাকায়। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি সাময়িক শান্ত রয়েছে। সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা আগের চেয়েও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। এখন পরিস্থিতি মুটোমুটি শান্ত। তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী ফখরুদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরে হেলিকপ্টার থেকে গোলাগুলির শব্দে ভয়ে ছিলাম। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে তাদের। তবে আতংক কাটেনি।
এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চলছিল। প্রতিদিন গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও রবিবার সকাল থেকে শোনা যায়নি। তবে দুপুরে একটি হেলিকপ্টারকে টহল দিতে দেখেছি আমরা। বর্তমানে ঘুমধুম এলাকার বাসিন্দাদের অনেকটাই আতঙ্ক কেটে গেছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি গণমাধ্যমে বলেন, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা হয়েছে। এপারে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে। জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের লোকজন স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাস ধরে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্বাধীনতাকামী আরাকান আর্মির মাঝে সংঘাত চলছিল। চলমান সংঘাতের মাঝে গত ২৮ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা দুটি মর্টারশেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় ঘুমধুমের তুমব্রু উত্তর পাড়া মসজিদের কাছে পড়ে এবং গত শনিবার সাড়ে নয়টার দিকে রেজু আমতলি বিজিবি বিওপির সীমান্ত পিলার ৪০-৪১ এর মাঝামাঝি পাহাড়ি অঞ্চলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যুদ্ধ বিমান ও ফাইটার হেলিকপ্টার টহল দেয় এবং ১০-১২টি গোলা ছোড়া হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দু দফা কড়া প্রতিবাদ জানানোর পর গত রবিবার থেকে আপাতত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ বন্ধ রয়েছে।
