সুহৃদ সুপান্থ
মুখে যতই বাগাড়ম্বর করুন না কেনো,চুপেচাপে ঠিকই ঠিক সময়েই ‘নিজেদের দোষ মেনে নিয়ে’ এবং ‘দু:খ প্রকাশ করে’ ভবিষ্যতে এমন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শোকজের জবাব দিয়েছেন লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের দুই হেভিওয়েট নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান বারেক দরকার ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম।
জেলা আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ডাকে জেলা শহরে সভায় না আসায় এই নেতাকে শোকজ করেছিলো জেলা আওয়ামীলীগ। সেই শোকজের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিয়েছেন নিজের সন্তান ও নিজ ভাতিজার জন্য ‘বেশি রিস্ক নিয়ে ফেলা’ এই দুই শীর্ষ নেতা।
শোকজের জবাব হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর। তিনি বলছেন, আমাদের এই দুই নেতার জবাব আমি পেয়েছি। জবাব পড়ে আমি সন্তুুষ্ট। তারা দুজনই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং দু:খ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে এই কাজ ভবিষ্যতে করবেন না বলেও জানিয়েছেন, আশা করছি তারা এখন দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে মাঠে নামবেন এবং কাজ করবেন। পুরো বিষয়ের উপর আমাদের নজর থাকবে।’
প্রসঙ্গত, ৭ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিতব্য উপজেলার সাত ইউনিয়নের নির্বাচনে মাইনী ইউনিয়নে দল নৌকা প্রতীকে আব্দুল আলীকে প্রার্থী করলেও সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকারের পুত্র এরশাদ সরকার। একইভাবে গুলশাখালি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামকে। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিমের ভাতিজা রকিব হোসেন।
ফলে নিজের পুত্র ও ভাতিজার পক্ষে মাঠে থাকতে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামছিলেন না বারেক ও রহিম। এনিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের চাপ সামলাতে এই দুই নেতাকে রাঙামাটি আসার জন্য ডাকলেও তারা সাড়া দেয়নি জেলা কমিটিকে। ফলে তাদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছিলো বলে জানিয়েছিলেন জেলা সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর।
