পাঁচ বছর আগেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনিই,কিন্তু ‘তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা’ এমন অভিযোগে অজ্ঞাত যাদুবলে কেন্দ্র থেকে পাওয়া সেই মনোনয়ন হুট করে বদলে গিয়ে প্রার্থী করা হয় অন্য আরেকজনকে ! যদিও সেই প্রার্থীও জিতেনি নৌকার মনোনয়ন পেয়েও। কি অবাক কান্ড,ঠিক পাঁচ বছর পর উপজেলা কিংবা জেলার,কারো তালিকাতেই না থাকা সেই প্রার্থী আবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ! আশ্চর্য এই প্রার্থীর নাম রতন চাকমা। রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সবচে গুরুত্বপূর্ণ সদর ইউনিয়নে নৌকা মার্কায় আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী তিনি !
দলের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে নেই,নন দলীয় কর্মসূচীর অপরিহার্য মুখও,নেতাকর্মীরাও খুব একটা চেনেন,তাও নয়। তবে আওয়ামীলীগেরই রাজনীতি করেন তিনি,সেটি নিশ্চিত। উপজেলা আওয়ামীলীগের কাছে মনোনয়ন চাইলেও উপজেলা থেকে জেলায় যে সংক্ষিপ্ত তালিকা পাঠানো হয়েছে,তাতে নাম ছিলোনা তার। জেলা থেকে কেন্দ্রে যে আরো সংক্ষিপ্ত তালিকা গেছে,তাতেও নাম ছিলোনা। তবুও শেষাবধি তিনিই প্রার্থী !
এর জন্য পুরো কৃতিত্ব দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দিয়েই রতন চাকমা পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলছেন, গতবার আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলাম,কিন্তু পরে আমাকে বাদ দিয়ে ঈমান আলী নামের আরেকজনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। বিষয়টি জেনে আমি ঢাকায় যাই,কিন্তু ততদিনে দেরি হয়ে যায়। গতবার ‘আমাকে পাওয়া যাচ্ছেনা’ ‘ আমি নিখোঁজ’ এরকম মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছিলো,এবার সেই বঞ্চনার উপহার আমি পেয়েছি। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। দলীয় নেতাকর্মীরা আমার জন্য কাজ করছেন,স্থানীয় নেতারাও সবাই আমাকে বিজয়ী করতে কাজ করবে। আগেরবারে কষ্ট ভুলে গিয়ে এবার দলকে বিজয়ী করতে চাই।’
‘উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় নাম না থাকা সত্তে¡ও কি করে রতন চাকমা দলীয় মনোনয়ন পেলেন?’- এমন প্রশ্নের জবাবে লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু বলেন,‘ কিভাবে পেয়েছেন আমি জানিনা,তবে পেয়েছেন, এটাই সত্য। এখন তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী,তাকে বিজয়ী করতে আমরা নেতাকর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।’ গতবার তাকে কেনো পরিবর্তন করে অন্য আরেকজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো, এমন প্রশ্নের জবাবে বাবুল দাশ বলেন-‘ সেটা আমি বলতে পারব না, আমি তখন দলের সাধারন সম্পাদক ছিলাম না।’
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলছেন-‘ এটা ঠিক যে উপজেলা এবং জেলার তালিকায় তার নাম ছিলোনা। এখন যেভাবেই হোক মনোনয়ন যেহেতু তিনি পেয়েছেন,তাকে বিজয়ী করতে কাজ করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ তিনিতো বাইরের কেউই নন, আমাদের দলেরই নেতা। সুতরাং আমরা মনে করি তিনি বিজয়ী হবেন।’
প্রসঙ্গত, এই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের অন্যতম দাবিদার ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান কুলিনমিত্র চাকমা আদু। উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আদু ছাড়াও ফারুক হোসেন ও রিকো চাকমার নাম পাঠানো হয়েছিলো দলীয় মনোনয়নের জন্য।
