হেফাজত সবুজ ও শুভ্র মিশু ॥
দেশে খাদ্যঘাটতির কোনও সুযোগ নেই মন্তব্য করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাবিবুর রহমান হোসাইনী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৯লক্ষ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। পাইপলাইনে আছে আরো কিছু খাদ্যশস্য, এছাড়াও মায়ানমার, ভারত, ভিয়েতনামের সাথে আলোচনা চলছে, সেসব খাদ্যশস্য অচিরেই বাজারে আসবে। বাজারে সেসব অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আরো জানান, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার টিসিবির মাধ্যমে এক কোটি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিপরিবারে ৪জন লোক ধরলে ৪কোটি লোক এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দেড় লক্ষ পরিবারের মাধ্যমে ২কোটি লোক যা সর্বমোট ৬কোটি লোককে সহায়তার আওতায় নিয়ে এসেছে। এছাড়াও ওএমএসের সাধারণ কর্মসূচির মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫-৩০লক্ষ লোক সুবিধা পাচ্ছে। আমরা মনে করছি এই সুবিধার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে চিন্তা তা দূর হবে এবং আস্তে আস্তে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সারা দেশের ন্যায় রাঙামাটিতেও খাদ্যশস্যের উর্ধ্বগতি প্রবণতা রোধে নি¤œ আয়ের মানুষকে সহায়তা ও বাজারদর স্থিতিশীর রাখতে সাধারণ ক্রেতা ও টিসিবি কার্ডধারীরে মাঝে ন্যায্যমূল্যে ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিক্রয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এইসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়েনে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস. এম. ফেরদৌস ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাসরীন সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমা বিনতে আমিন, রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা।
খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা প্রদানের জন্য কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মাঝে ১৫টাকা কেজি দরে মাসিক ৩০কেজি হারে আগামী তিনমাস সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর খাদ্য হিসেবে চাল বিতরণ করা হবে। এতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ১৭হাজার ৯৮টি পরিবারের মাঝে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। মোট চাল বরাদ্দের সংখ্যা ৫১২ দশমিক ৯৪ মেট্রিকটন। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্ধারিত বিক্রির দিন কার্ডধারীরা এই চাল সংগ্রহ করতে পারবেন।
অপর দিকে ওএমএস এর মাধ্যমে রাঙামাটি পৌর এলাকায় ১৮জন ডিলারসহ জেলায় মোট ২৮জন ডিলারের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫দিন প্রতিকেজি ৩০ টাকা দরে জনপ্রতি ৫ কেজি হারে চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। ওএমএস এর মাধ্যমে জেলায় প্রতিদিন ৫৬ মেট্রিকটন চাল বিক্রি করা হবে। প্রতিমাসে ২২দিন চাল বিক্রি করা হবে। যার মাসিক বরাদ্দ ১২৩২ মেট্রিকটন।
সাপছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা সুরবালা চাকমা ও সজীব চাকমা জানান, বাজারে চালের অনেক দাম, এই সময় সরকার আমাদের ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছে। এতে আমরা অনেক খুশি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিশ্চিন্তে দুবেলা ভাত খেতে পারবো। এতো দিন যে কষ্টে ছিলাম আজ থেকে তা আর থাকবে না। আমরা চাই সরকার যেন এই কর্মসূচি বেশ কয়েক মাস চালু রাখেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় মোট ২৮ জন ডিলারের মাধ্যমে ৩ ক্যটাগরিতে দৈনিক ৫৬ মেট্রিকটন চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। মাসে এই চালের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ২৩২ মেট্রিকটন।
