একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ছয় প্রার্থী তাদের মধ্যে হেভিওয়েট তিন প্রার্থীই অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ছাড়াও দুই জন পেয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে দীপংকর তালুকদার ১৯৯১সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে নির্বাচন করে আসছেন, ইতিপূর্বে পাঁচবার অংশ নিয়ে তিনবার বিজয়ী হয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ান পূর্বে উপজেলা ও পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও ২০০১ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। তিনি একবারই সংসদ নির্বাচন করেছিলেন সেবারই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সমর্থিত প্রার্থী ঊষাতন তালুদারের সংসদ নির্বাচনে অভিষেক হয়েছিল ২০০৮সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তবে সেবার বিজয় তার হাতে ধরা না দিলেও ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাক্সিক্ষত বিজয় তার হাত ছাড়া হয়নি।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৬ প্রার্থী তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার পেয়েছিলেন ২৪,৬০৪ ভোটের ব্যবধানে ৪৯,২২১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেবার তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী নাজিমউদ্দিন আহমেদ পেয়েছিলেন ২৪,৬১৭ ভোট। সেই নির্বাচনে ভোট পরেছিল ৩৮.০২%।
১৯৯৬ সালের ষষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর কেউ অংশ নেননি।
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো আওয়ামীলীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার ২৪,৬৯২ ভোটের ব্যবধানে ৬৩,১০১ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী পারিজাত কুসুম চাকমাকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তখন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পরিজাত কুসুম চাকমা পেয়েছিলেন ৩৮,৪০৯ ভোট। সেবার ভোট পরেছিল ৫৮.৫১%।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে ১৭,৭৪৪ ভোটের ব্যবধানে ৬৮,৭৪৪ভোট পেয়ে পরাজিত করেছিলেন বিএনপির প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ান। সেবার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার পেয়েছিলেন ৫১,০০০ভোট।
২০০৮সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদার ৫৮,৫৮৩ভোটের বিশাল ব্যবধানে ১,১৫,০১২ভোটে তৃতীয় বারেব মতো বিজয়ী হয়েছিলেন। সেবার তার নিকটতম প্রতিদন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী মৈত্রী চাকমা। তিনি পেয়েছিলেন ৫৬,৪২৯ভোট। আর সেবার জনসংহতি সমিতি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের ভোটের মাঠে অভিষেক হয়েছিল ৫১,৮৩৩ভোট নিয়ে।
২০১৪সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে ১৯,৬৬২ ভোটের ব্যবধানে ৯৭,০৪৭ ভোট পেয়ে পরাজিত করেছিলেন জনসংহতি সমিতি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাঠে অভিষেক হওয়া ঊষাতন তালুকদার। আর তখন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দীপংকর তালুকদার পেয়েছিলেন ৭৭,৩৮৫ভোট।
জাতীয় সংসদে আগেই অভিষেক হওয়া এই তিন প্রার্থীই অতীতে পরীক্ষিত ভোটারদের কাছে। তারা তিনজনই একে অন্যকে জনসমর্থনে পরাজিত করে এক একবার এক একজন সংসদ সদস্য হয়েছেন। তাদের কাজ ভোটারদের কতটুকু মন জয় করতে পেরেছে তা আগামী ৩০ ডিসেম্বর রাতে জানা যাবে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার হওয়ার পর।
