এক সোমবারে বাড়ি গিয়ে স্ত্রী সন্তানদের সাথে দেখা করে আবার চলে গিয়েছিলেন জেএসএসকর্মী (এমএন লারমা) মঞ্জু। আর পরের সোমবারে সেই মঞ্জু লাশ হয়ে ফিরলেন দীঘিনালার তারাবুনিয়া এলাকার ডলুছড়ির নিজ বাড়িতে। গতকাল লাশ পৌঁছার পর গিয়ে দেখা গেছে, নিহত মঞ্জুর বাড়িতে পাঁচ সন্তান আর স্ত্রীর শোকের মাতম। সেই মাতমে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশও।
অপরদিকে, মঞ্জু হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। গতকাল জেলা সদর হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ পাহাড়ায় নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় মঞ্জুর লাশ। গতকালই দাহ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দেব।
নিহতের স্বজনেরা জানায়, তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন মঞ্জু চাকমা। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আঞ্চলিক রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে কারণে প্রতিপক্ষের আক্রমণের আশঙ্কায় অনিরাপদ ভেবে বাড়িতে থাকতেন না কখনো। মাঝে মধ্যে চুপিসারে বাড়ি গিয়ে স্ত্রী সন্ত্রানদের সাথে সাক্ষাত করে দ্রুত ফিরে যেতেন। এক সপ্তাহ আগে সোমবারে (১অক্টোবর) দিনে সর্বশেষ বাড়ি গিয়েছিলেন, কিছুক্ষণ সময় দিয়ে খুব দ্রুত আবার চলেও যান। আর পরের সোমবারে লাশ হয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।
নিহতের স্ত্রী চম্পা চাকমা (৪৫) জানান, প্রতি রাত ৮/৯ টার দিকে স্বামীর সাথে ফোনে কথা হতো। কিন্তু ঘটনার দিন মনের অস্থিরতার কারণে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্বামীকে ফোন দিয়েছিলেন। তখন অপর প্রান্ত থেকে বলেছিলেন পরে কথা হবে। ঠিক তখনি মঞ্জুকে শত্রুরা ধাওয়া করছিল। সে সময় তিনি ফোনে ধাওয়াকারীদের চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। শেষ কথাও আর হয়নি স্বামীর সাথে।
জেএসএসের (এমএন লারমা) এক সক্রিয় কর্মী নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, ‘মঞ্জু দীর্ঘদিন ইউপিডিএফের (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট) সক্রিয়কর্মী ছিলেন। বছর পাঁচেক আগে মঞ্জুকে ইউপিডিএফ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর মঞ্জুর জীবন আরও অনিরাপদ হয়ে উঠে। সে কারণেই সেফ জোন হিসেবে বছর তিনেক আগে মঞ্জু জেএসএসে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর থেকে সে জেএসএসের বিশ্বস্ত কর্মী হয়ে উঠেছিলেন।
প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ: জেএসএসকর্মী (এমএন লারমা) মঞ্জু হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। জেএসএস (এমএন লারমা) এবং পিসিপি’র (পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ) আয়োজনে সমাবেশে দীঘিনালা ডিগ্রি কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। মিছিল শেষে কলেজ মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে জেএসএস (এমএন লারমা) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সূর্য চন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, সদস্য সমীর চাকমা, যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জ্ঞান চাকমা এবং পিসিপির সভাপতি সুনেন্টু চাকমা।
প্রসঙ্গত, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কি. মি. দুরে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের শিমুলতলি এলাকায় দোকানের সামনে রবিবার সন্ধায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন জেএসএসের (এমএন লারমা) যুব সংগঠন যুব সমিতির সদস্য মঞ্জু চাকমা (৪৭)। এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে (প্রসিত) দায়ি করা হচ্ছে সংগঠনের পক্ষ্য থেকে, তবে ইউপিডিএফ হত্যাকান্ডে তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করছে।
