শরতের ভোরে শিশির ভেজা শিউলি ফুলের গন্ধ আর কাশফুলের দোলা জানান দেয় দুর্গা পূজা এলো বলে। পূজার বাকি আর মাত্র কয়েকদিন; তাই রাঙামাটি শহর জুরে সাজ-সাজ রব। দেবীকে বোধনের জন্য প্রতিমা তৈরির শেষ মুহুরর্তের প্রস্ততি চলছে শহরের ১৩টিসহ জেলার ৪০ পূজা মন্ডপে।
আগামী ১৪ অক্টোবর দেবীর বোধন ও ১৫অক্টোবর সন্ধ্যায় ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজা। পূজায় দেবীকে এক এক মন্ডপে ভিন্ন ভিন্ন সাজে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগর ও পূজা উদযাপন কমিটি। মন্ডপ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চলছে তোরণ নির্মাণের কাজ।
বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এই বছরও জেলা সবচে বড় পূজার আয়োজন চলছে রাঙামাটি শহরের অর্ধশত বছরের পুরনো গীতাশ্রম মন্দিরে। এ জেলায় একমাত্র এখানেই থীম পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তাদের এবারের থিম ‘ধ্যানমগ্ন মা মমতাময়ী’। এছাড়াও আয়োজনে পিছিয়ে নেই জেলার শত বছরের পুরানো তবলছড়ি রক্ষা কালী মন্দিরেও।
এবার জেলায় ৪০টি পূজা মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে সদর উপজেলায় শহরের ১৩টিসহ ১৪টি মন্ডপে। বাঘাইছড়ি ও কাউখালী উপজেলায় ৪টি করে মন্ডপে। লংগদু, নানিয়াচর ও বরকল উপজেলায় ২টি করে মন্ডপে। জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ১টি করে মন্ডপে। কাপ্তাই উপজেলায় ৭টি মন্ডপে এবং রাজস্থলী উপজেলায় ৩টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি আশীষ দাশ গুপ্ত বলেন, ‘জেলার সকল মন্ডপে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চলছে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন পূজোর নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের আশস্ত করেছেন। আশা করছি সুন্দরভাবে উৎসব মুখর পরিবেশে পূজোর সব কটি দিন শেষ করতে পারবো সকলের সহযোগীতাই।’ আর্থিক সহযোগীতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে প্রতি মন্ডপে ১টন খাদ্যশস্য ও পৌরসভা থেকে পৌরএলাকার সকল মন্ডপকে ৫হাজার টাকা করে নগদ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি অমর কুমার দে জানান, আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও সকলের সহযোগীতাই সুন্দর ভাবে ৫দিন ব্যাপী পুজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারবো বলে আশা রাখছি। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যে আমাদের সাথে পূজা সুন্দর ভাবে শেষ করার জন্য প্রস্তুতি মূলক মতবিনিময় সভা করেছে। বিগত বছরগুলোর মতো এই বছরও শারদ উৎসব সকল সম্প্রদায়ের মিলন মেলার মধ্যদিয়ে শেষ হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর জানান, ‘দূর্গাপূজা উপলক্ষে পূজোর সব কটি দিনে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। পূজামন্ডপ গুলোতে কমিটির লোকজন স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করেছে; তার পাশাপাশি আমরা আনসার, পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়ন করবো। নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের টহলটীমও থাকবে। আমরা আশা করছি সুন্দরভাবে পূজা অনুষ্ঠান শেষ হবে।’
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, ‘আসন্ন দূর্গাপূজাই যাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন সকলকে নিয়ে একসাথে এই উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রতিটি মন্ডপের প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত করেছি। এছাড়াও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক সাহায্য আসলে তা আমরা তাদের মাঝে বিতরণ করে দিবো।’
