খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
ঠিক ২০ বছর আগে ১১ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করে এক কিশোরসহ মোট তিন ব্যক্তি। সে দিন সামাজিক বিচারে তিন ধর্ষককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সে জরিমানার টাকা না দিয়ে উল্টো ধর্ষকরা ভিকটিম নিয়ে কুৎসা রটায়। পরে লজ্জায়, ক্ষোভে মেয়েটি আত্মহত্যা করে।
অবশেষে দীর্ধ ২০ বছর পর সেই মামলার রায় দিয়েছে আদালত। আদালত অভিযুক্ত দুইজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ১০বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে। একই সাথে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হয়। বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মুহা আবু তাহের এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খাড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার ময়ুরখীল গ্রামের ধনামিয়ার ছেলে নবী হোসেন(৩৫), একই এলাকার মৃত আশ্রাফ আলীর ছেলে আব্দুর রাহীম(৪৩) ও আবদুল রাশেদের ছেলে শহিদুল ইসলাম(৩৮)
জানা যায়, ২০০০ সালের ৯ ডিসেম্বর সকালে মোছাঃ ফরিদা আক্তার(১১)কে লক্ষীছড়ির ময়ূরখীল গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ধরে নিয়ে হাত, মুখ বেঁধে পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিম বিষয়টি পরিবারে জানালে ওইদিন সামাজিক বিচারে তিন ধর্ষককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানার টাকা না দিয়ে উল্টো ভিকটিম নিয়ে কুৎসা রটায়। এতে লজ্জায়, ক্ষোভে ঘটনার কয়েকদিন পর কিশোরী আত্মহত্যা করে।
এই ঘটনায় চার দিন পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ঘটনার সময় ধর্ষক নবী হোসেন শিশু হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন . ২০০০ এক ৯(৩) ধারায় তাকে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অন্য দুই আসামি আব্দুর রহিম ও শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট বিধান কানুনগো বলেন, দেরিতে হলেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অপকর্ম করে কেউ যে মুক্তি পাবে না এই রায় তারই দৃষ্টান্ত। রায়ে আদালত বলেছে, এমন ন্যাক্কারজনক, ঘৃন্য ঘটনার বিরুদ্ধের সামাজিকভাবে আরো প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।
