প্রান্ত রনি
পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ২০২১ উপলক্ষে কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় বিএফডিসি রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্র ঘাটে মাছের পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার। পরে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) রাঙামাটি নদীউপকেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হাজী মো. কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা পরিষদের মৎস্যবিষয়ক আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মারুফ আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, বিএফডিসি রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম, বিএফআরআই রাঙামাটি নদীউপকেন্দ্রের প্রধান মো. আজহার আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, ‘বর্তমান সরকার মৎস্য চাষীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস আহরণ বন্ধকালীন সময়ে ২২ হাজার ৪৫৫ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সরকার মৎস্য চাষী ও জেলেদের কল্যাণে আরও সমৃদ্ধিজনক কর্মকা- হাতে নিবে।’
আলোচনা সভা শেষে জেলার ২০ জন মৎস্য চাষীকে মাছ চাষের উপকরণ হিসেবে প্রতিজনকে ২০ কেজি মাছের খাদ্য, ১০ কেজি চুন, ১০ কেজি সার এবং ৬০ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি বালতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার শ্রেষ্ঠ মাছ চাষী হিসেবে তিন জনকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। জেলার শ্রেষ্ঠ তিন মাছ চাষী হলেন- রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় আব্দুল বারেক সরকার, কাপ্তাই উপজেলায় সাইফুল ইসলাম ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় লোকমান হোসেন।

এদিন বিকালে জেলা মৎস্য কার্যালয়ে এ সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এসময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ ও সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. এরশাদ বিন শহীদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি; বেকারত্ব দূর করি’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ২৮ আগস্ট (শনিবার) থেকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) পর্যন্ত শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ২০২১। ইতোমধ্যে মৎস্য সপ্তাহের দু’দিন শেষ হয়েছে। সোমবার (৩০ আগস্ট) তৃতীয় দিনের কর্মসূচি হিসেবে প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে (৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর) চাষীদের মাছচাষ বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ প্রদান এবং পুকুরের মাটি ও পানি পরীক্ষা করা হবে। ষষ্ঠ দিনে (২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি ও সাফল্য বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী দেখানো হবে। শেষদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে এবারের আয়োজনের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বাকী দিনগুলির কর্মসূচি পালনের জন্য আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মূলত: দেশের মাছ চাষের সফলতা তুলে ধরা, চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও নতুনভাবে মাছ চাষে উদ্যোক্তা গড়ে তোলাসহ নানান দিক বিবেচনায় প্রতিবছরই জাতীয় মৎস্য পালিত হয়ে থাকে। রাঙামাটি জেলাতেও আমরা জাঁকজমকভাবে এ সপ্তাহ পালনের চেষ্টা করছি। তবে করোনার এই সংকট সময় না থাকলে আমরা আরও আড়ম্বরপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারতাম।’
