পুষ্প মোহন চাকমা, বিলাইছড়ি
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলতি বর্ষা মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় আনুপাতিক হারে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধির উপযুক্ত সময় প্রায় অতিবাহিত হয়ে আসলেও হ্রদে আশানুরূপ পানি বাড়েনি। পানিস্বল্পতায় হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় উদ্বেগ ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে বিলাইছড়ি জেলেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাইছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ৭৭ জেলে রয়েছেন। কাপ্তাই হ্রদবেষ্টিত দ্বীপাঞ্চলে তাদের বসবাস ও জীবন জীবিকা হওয়ায় তারা মাছধরার ওপর জীবিকা নির্বাহ করে। চলতি বছর হ্রদে পানি বাড়ার উপযুক্ত সময়ের শেষ প্রান্তে এসেও হ্রদে পানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা না যাওয়ায় তারা কিভাবে জীবিকানির্বাহ করে পরিবার পরিজনের পেটে অন্নজোগাবে এমন উৎকন্ঠা ও সংশয়ে দিন কাটছে জেলেদের।
উপজেলার কেরণছড়ি পাড়ার মৎস্যজীবী শান্তিময় চাকমা ও প্রভাত চন্দ্র চাকমা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বৃষ্টি নেই। ফলে কাপ্তাই লেকে পানি বাড়ছে না। এমন কি বাড়ারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। যদি লেকে পানি না বাড়ে তবে আমাদের মৎস্যজীবীদের জীবিকা বা কর্মসংস্থান শেষ হয়ে যাবে। এটি ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প আয়ের পথ নেই।
তারা আরও বলেন, প্রতি বছর কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা তিনমাস বন্ধ থাকে। এ তিনমাসে আমরা ত্রাণ মন্ত্রণালয় হতে ২০ কেজি করে চাল পাই। যদিও এগুলো দিয়ে আমাদের কিছুই হয় না। আমাদের মাছ ধরা বন্ধের তিন মাস সময় ৩১ জুলাই শেষ হয়েছে। লেকে পানি না থাকায় আরও দুই দফায় ২০ আগস্ট পর্যন্ত মাছধরা নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ জানান, উপজেলায় ১ হাজার ৭৭ জন জেলের তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা প্রতি বছর তিন মাস মাছধরা বন্ধের সময় জেলেদের প্রতিমাসে খাদ্যশস্য (চাল) দিয়ে থাকি।অ নুরূপভাবে এ বছরও প্রতি পরিবারকে ২০ কেজি করে সাময়িক ত্রাণ বিতরণ করে আসছি।
বিএফডিসি রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্রে সূত্র জানায়, এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০০ এমএসএলের ওপরে থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে আছে ৮৮ এমএসএল। তাই এখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে হ্রদের সব পোনা ও ছোট মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়বে। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। ধস নামতে পারে হ্রদের মাছ আহরণে। যার কারণে আপাতত ২০ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ল।
