শংকর হোড় ॥
শুরু থেকেই বিএনপি বাংলাদেশের নির্বাচনে ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছিলেন। ইভিএমে কারচুপির নানান সুযোগ রয়েছে দাবি করে ইভিএম ব্যবহার শুরুর দিন থেকে বিএনপি এই ব্যবস্থায় নির্বাচনের বিরোধিতা করে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মত রাঙামাটিতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। রাঙামাটির ভোটারদের জন্য এই প্রথম ইভিএমে ভোটগ্রহণ নিয়ে পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও। তবে শুরু থেকে বিএনপি এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করলেও বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার সাথে কথা বলে জানা যায় আসন্ন পৌর নির্বাচনে জেতার জন্য এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব বলে তাদের ধারণা।
ইভিএম ব্যবস্থায় ভোট চালুর পর বিএনপি কেন্দ্রীয় কমান্ড ইভিএমে প্রোগ্রামিংয়ে ভ্রান্তি, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বিদ্বেষাত্মক টেম্পারিং বা কারসাজির সুযোগ আছে বলে অভিযোগ করে। এছাড়া কম্পিউটারভিত্তিক ভোট প্রদান যন্ত্রের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ইভিএম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিশেষ দলের পক্ষে নির্বাচনী ফলাফল পাইয়ে দেয়ার সুযোগ আছে বলে বিএনপি অভিযোগ করে।
তবে স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন পৌর নির্বাচনে জেতার জন্য বিএনপি ইভিএমের ওপরই বেশি আস্থা রাখতে চাইছে। তাদের ধারণা, সারা দেশের ট্রেডিশনাল ভোট ব্যবস্থায় কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স প্রদানের সুযোগ থাকলেও ইভিএমে সেই সুযোগ থাকার সম্ভাবনা কম। যেহেতু আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের মাধ্যমে ভোটার শনাক্তের পর ভোট প্রদান করতে হবে সেজন্য কেন্দ্র দখল করেও ভোট বাড়ানোর সুযোগ এক্ষেত্রে কম আছে। তবে সেক্ষেত্রে নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই তারা মনে করছেন। ইভিএম ভোটগ্রহণ করার কারণে এবার ভোটে কোনও কারচুপি হবে না এমনটা আশাবাদ ব্যক্ত করে তারা বলেন, এতে বিএনপি প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বেশি।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে মামুনুর রশীদ মামুনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা পুরোপুরি ইভিএমের পক্ষেও না, আবার বিরোধিতা করছি না। আমরা আস্থা রাখতে চাই। আশা করি জনগণের টাকায় কেনা ইভিএমে জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। শুনেছি মেমোরি ঢুকিয়ে ভোটের রেজাল্ট বদলে ফেলা সম্ভব, তারপরও যেহেতু আমিও আগে এই ব্যবস্থায় নির্বাচন করি নাই, তাই এর বিরুদ্ধে বলবো না। ১৪ ফেব্রুয়ারিই দেখা যাবে এই ব্যবস্থায় মানুষ ভোট দিতে পারে কিনা।
জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম বলেন, আমরা ইভিএমে আস্থা রাখতে চাই। যেহেতু নতুন ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ হবে সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে ধোয়াশায় আছে। তাই আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছি অন্তত ডিসের মাধ্যমে যাতে ইভিএমের ভোটপদ্ধতি বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।
