খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক বলেছেন, নিরাপত্তা ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির কারণে এখানকার নিরাপত্তাসহ স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। এই এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে হলে অবৈধ অস্ত্র নির্মূল করতে হবে। তা না হলে পাহাড়ে সংঘাত বন্ধ হবে না। রবিবার সকালে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভায় পাহাড়ের নিরাপত্তা, শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন কমান্ডার।
এসময় তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনী কারো শত্রু নয়। যারা চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে তারাই নিরাপত্তা বাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিকদের সচেতন থাকতে হবে।
পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রায় বাধাদানকারীদের ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে হামিদুল হক বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির কারনে এখানকার উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধের দাবি জানান তিনি। সংঘাত, চাঁদাবাজি বন্ধ ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ এগিয়ে আসার আহ্বান জানান খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের অধিনায়ক হামিদুল হক।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়–য়া, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আজম, রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর রফিকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে ৮টি মন্দির ও একটি মসজিদ এবং ৮ মেধাবি শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার টাকা করে শিক্ষা সহায়তাসহ প্রায় ১ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজিয়ন কমান্ডার হামিদুল হক।
