পাহাড়ে ভূমির খাজনা আদায়ে এবং স্থায়ী বাসিন্দার সনদ প্রদানে বাঙালিদের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে হেডম্যান প্রথা বাতিল এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পরিবারের তালিকা যাচাইসহ উদ্বাস্তু বাঙালি পরিবারদের অন্তর্ভূক্তিসহ কয়েক দফা দাবি জানিয়েছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম এবং বৃহত্তর বাঙালি ছাত্র পরিষদ। রোববার দীঘিনালা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন হোটেল ইউনিটিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দাবি জানানো হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৃহত্তর বাঙালি ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পার্বত্য অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি পৌরসাভার ওয়ার্ড কমিশনার এসএম মাসুম রানা। এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরিষদের মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মুক্তার হোসেন, দীঘিনালা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর আলম, তত্ত্বাবধায়ক মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. আহাম্মদ।
হেডম্যান প্রথা বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তার স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সম্মেলনে বলা হয়, বৃটিশ আমলের প্রথা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে হেডম্যানের নিয়ম নীতি। হেডম্যান মারা গেলে তাঁর ছেলে সে দায়িত্ব পায়। যেখানে কোন গণতন্ত্র বিদ্যমান নেই। আর সে কারণে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে হেডম্যানরা শুধুমাত্র বাঙালিদের হয়রানি করছেন। বাঙালিদের খাজনা গ্রহণ করা হয় না। কোন চাকুরীর জন্য আবেদন করতে হলে প্রয়েঅজন স্থায়ী বাসিন্দার সনদ। তখন হেডম্যানরা বাঙালিদের স্থায়ী বাসিন্দার সনদের জন্য প্রতিবেদন প্রদান করেন না। যদিও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী বাঙালিরা পাহাড়ের বাসিন্দা তারপর ও হেডম্যানদের দ্বৈতনীতির কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পাহাড়ের বাঙালিরা। তাই হেডম্যান প্রথা বাতিল করে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। এমনকি ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনের মাধ্যমে খাজনা প্রদানেরও ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে যাদের তালিকা করা হয়েছে সেখানে শুধুমাত্র উপজাতীয় পরিবারের নাম রয়েছে। সে সব তালিকায় অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুর সাথে দেশের বাইরের নাগরিকের নাম রয়েছে উল্লেখ করে সে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানানো হয়। সেই সাথে সে তালিকায় উদ্বাস্তু বাঙালি পরিবারদের অন্তর্ভূক্তিরও দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া সরকারের পুনর্বাসিত বাঙালিদের মধ্যে যারা এখনো স্ব স্ব ভূমিতে না যেতে পারায় শিবিরে আশ্রিত জীবন যাপন করছেন তাদের স্ব স্ব ভূমিতে পুনর্বাসন করারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
