রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের দুর্গম ভাল্লুকিয়া গ্রামে অবস্থিত ভাল্লুকিয়া নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় মৃত গোপাল চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষা আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেন বিদ্যালয়টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার দুইযুগেও আলোর মুখ দেখেনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নেই আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিও।
তবে দূর পাহাড়ের এই বিদ্যালয়টি বিগত সময়ে শিক্ষা প্রদানে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পুরো কাপ্তাই উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান করে নিয়েছে এই ভাল্লুকিয়া বিদ্যালয়।
ওই এলাকার স্থানীয়দের জীবিহা নির্বাহের একমাত্র উৎস কৃষি কাজ। আর হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন মাইলের পর মাইল পথ পারি দিয়ে বিদ্যালয়টিতে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাও অর্জন করার সুযোগ পাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এই বিদ্যালয়টি ‘আলাদিনের দৈত্যের চেরাগ’ এর মতো কাজ করছে।
দেখা গেছে, তীব্র গরমে ঘামে-ভেজা শরীরে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করেন শিক্ষকরা। ছাত্রছাত্রীরাও দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে এসে তীব্র গরমে ক্লাস করেছে; তেমনি ভাবে বর্ষাও কাটে তাদের। ঝড়ের দিনে অন্ধকার ঘনিয়ে আসলে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান ব্যাহত হতো।
তবে প্রতিষ্ঠার ২৪ বছরে কাপ্তাই উপজেলার নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের দৃষ্টিতে পড়ে বিদ্যালয়টি। ঘটনাটি জানার ২৪ ঘন্টার মাথায় তিনি ৬৫ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল প্রদান করে বিদ্যালয়টিতে বিদ্যুতের আওতায় আনেন । সোলার প্যানেল স্থাপনের মধ্যদিয়ে আলোকিত করেছেন বিদ্যালয়টির প্রত্যেকটি শ্রেণীকক্ষ। বাতির আলোয় শিক্ষার্থীরা এখন অন্ধকার নামলেও ব্লক বোর্ডের লেখা দেখতে পাবে স্পষ্ট। তাঁদের মাথার ওপর ঘুরবে ফ্যান। সব মিলিয়ে দুই যুগের অপূর্ণতা কিছুটা কাটবে বিদ্যালয়টির।
এতে করে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকরাও ছাত্রছাত্রীদের মতো খুশি। ইউএনও’র এমন কাজে তারা বেশ উৎপল্ল। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি কুতুবি ও শিক্ষকবৃন্দ এমন কাজের জন্য ইউএনও’কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, আমি কাপ্তাইয়ে এসেছি মাত্র দুইমাস। এখানে আসার পর থেকেই এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয়ের খোঁজখবর নিচ্ছি। গত তিন জুলাই আমি জানতে পারি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দুইযুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো আলোর দেখা পায়নি। পরে আমি সাথে সাথে বিদ্যালয়টির জন্য ৬৫ ওয়াটের একটি সোলার প্যানেল দিই। রাতের মধ্যে সেটা লাগানো হয়। এখন শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও আলো পাবে, ফ্যানের বাতাস পাবে। বৃষ্টির দিনেও অন্ধকারে থাকতে হবে না তাদের। এই সেলার প্যানেল দিয়ে শিক্ষকরা মোবাইলে চার্জ দিতে পারবে। এছাড়া তিনটি বাতি ও একটি ফ্যান চলবে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা নিয়ে আমার আগ্রহ বেশি। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবী গড়বে। সরকার দুর্গম পাহাড়েও শিক্ষার মান-উন্নয়নে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে।
