মো: ইসমাইল, পানছড়ি ॥
শহর সাজাতে দৃষ্টিনন্দন জায়গার তুলনাই নেই। তবে লক্ষ্য করলে দেখা মিলে এমন দৃষ্টিনন্দন জায়গাগুলিই ধারণ করে আছে অশোভনীয় আকারে। বলছিলাম খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যাম’র কথা। শত শত কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালে পানছড়ি সদর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে শান্তিপুর এলাকায় চেঙ্গী নদীর বুকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো রাবার ড্যাম। ফলে একদিকে যেমন কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছিলো অন্যদিকে দর্শনার্থীদের চেহারায় দেখা মিলেছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছাপ।
অথচ বর্তমানে সৌন্দর্যবর্ধনের স্থানে এসে দেখা মিলছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। রাবার ড্যাম এলাকার পুরো নদী জুড়ে জমে আছে ময়লার ভাগাড়। প্রতিনিয়তই চেঙ্গী নদীতে ফেলা হচ্ছে পানছড়ি বাজারের সকল আবর্জনা। আর সেটি উজানে রূপ নিয়ে রাবার ড্যামকেই ভাটা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে দূষিত হচ্ছে নদী, সৌন্দর্য হারাচ্ছে এই জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বারবার তাগাদা দেয়া হলেও ফল মেলেনি গত ৬ মাসেও। প্রশাসনের চোখ না পড়লে বসে থাকেনি একদল স্বেচ্ছাসেবী। ফলে ১০ জন প্রকৃতিপ্রেমী মুহূর্তেই নেমে পড়ে রাবার ড্যামকে পরিচ্ছন্ন করতে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা সাড়ে ৩ ঘন্টা কাজের মাধ্যমে রাবার ড্যাম এলাকাটি আবর্জনা মুক্ত করে স্বেচ্ছাসেবীরা।

স্বেচ্ছাসেবীরা জানায়, পানছড়ি বাজারের পাশ দিয়েই চেঙ্গী নদী বয়ে যাওয়ায় বাজারের সব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এই নদীতে। আর বাজার থেকে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাবার ড্যাম। ফলে এই আবর্জনাগুলি গিয়ে জমাট বাঁধছে সেখানে। খাগড়াছড়িতে এই রাবারড্যামটি বহুল পরিচিত। প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থীরা বেড়াতে আসে। কিন্তু বর্তমানে প্রকৃতির এমন বহাল দশায় দর্শনার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও পত্র-পত্রিকায় বারবার এই বিষয়টি জানান দেয়া হলেও গত ৬ মাসেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই আমরা ১০ জন প্রকৃতিপ্রেমী স্বেচ্ছায় পুরো রাবার ড্যামকে পরিচ্ছন্ন করি। আমরা আশা রাখি প্রশাসন এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিবে।

