জাকির হোসেন, দীঘিনালা ॥
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বাণিজ্যিকভাবে ঝাড়ু ফুলের বাগান করে কোটি টাকা উপার্জনের স্বপ্ন দেখছেন কল্যাণ চাকমা। গত বছর প্রায় ৫০ একর জমিতে ঝাড়ু ফুলের বাগান করেছিলেন। অন্যান্য বাগানের চেয়ে ঝাড়ু ফুল বাগান করে সবচেয়ে বেশি লাভবান বলে দাবি তাঁর।
উপজেলার কোথাও কোথাও স্বল্প পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে ঝাড়ু ফুলের বাগান করলেও কল্যাণ চাকমার বাগানটি অত্র অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ঝাড়ু ফুলের বাগান বলে দাবি করছেন স্থানীয় ঝাড়ু ফুল ব্যাবসায়ীরা। অপরদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঝাড়ু ফুলের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে ফলদ বাগান সৃজনের পরামর্শ জানান বনবিভাগ।
গত বছর তেমন একটা ফুল না হলেও এবছর মোটামুটি ফুল এসেছে বলে দাবি করে কল্যাণ চাকমা জানান, চলতি মৌসূমে কম করে হলেও ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ঝাড়ু ফুল বিক্রয় হবে। যার পরিমাণ সামনের বছর থেকে অনেক বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
কল্যাণ চাকমার বাড়ি উপজেলা সদরের অদুরে। ঝাড়ু ফুল বাগান করেছেন বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ কি.মি. দুরে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের ইরানছড়ি এলাকায়। কল্যাণ চাকমা জানান, সে জায়গাটিতে আগে কলা বাগান করেছিলেন। কিন্তু আশানুরুপ লাভবান হননি। পরে কলা বাগান কেটে বাণিজ্যিকভাবে ঝাড়– ফুলের বাগান করেন গত বছর। ঝাড়ু ফুল বাগান করতে খরচও কম। অন্যান্য বাগানের মতো খুব একটা পরিচর্যাও করতে হয় না। ঝাড়ু ফুলের চারা লাগানো, বাগান ঘেরা দেওয়াসহ শ্রমিক খরচ মিলিয়ে সর্বমোট ৫-৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তাঁর। আর এক বছরের মাথায় যে পরিমাণ ঝাড়ু ফুল ধরেছে তাতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিক্রয়ের আশা করছেন তিনি। এছাড়া, পরের বছর থেকে ফুল উৎপাদনের পরিমান অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে; অপরদিকে নতুন করে তেমন খরচ হবে না। প্রতি বছর ফুল উত্তোলনের পর গাছের গোড়ায় কেটে আগুনে পুড়িয়ে বাগানটি পরিষ্কার করে দিতে হয়। পরের মৌসুমে মাটির ভিতরে থাকা গোড়া থেকে প্রাকৃতিকভাবে দ্বিগুণহারে নতুন করে আবার গাছ জন্মায়। সে জন্য সামনের বছর থেকে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন রয়েছে কল্যাণ চাকমার মনে।
ইতিমধ্যে ফুল উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ৩০জন শ্রমিক ফুল উত্তোলনের কাজ করছেন। এতে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও হয়েছে বলে জানান শ্রমিক দিনেশ চাকমা (৩০) ও ধ্বনিতা চাকমাসহ (২৮) অন্যান্য শ্রমিকরা।
ঝাড়ু ফুল ব্যবসায়ী উপজেলার কলেজটিলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ জানান, কল্যাণ চাকমার বাগানের ঝাড়ু ফুল তিনি অগ্রিম চুক্তিতে ক্রয় করেছেন। ঝাড়ু ফুল উত্তোলনের পর শুকিয়ে দিবেন মালিক পক্ষ। শুকনা ফুল তিনি প্রতি কেজি ১১৫টাকা দরে ক্রয় করেছেন। শ্রমিক খরচ মিটানোর জন্য মালিককে তিনি আগাম টাকাও দিয়েছেন।
আব্দুল্লাহ আরো জানান, তিনি ২৫ বছরে যাবত ঝাড়ু ফুলের ব্যবসার সাথে জড়িত। ঝাড়ু ফুল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে পাইকারী বিক্রয় করেন। ঘর ঝাড়ু দেওয়া এবং বিশেষ করে ভবন নির্মাণে পলেস্তার ফিনিশিং-এ এবং রং লাগানোর কাজে ঝাড়ু ফুল ব্যবহৃত হয়।
পাহাড়ে ঝাড়ু ফুল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ঝাড়ু ফুল উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। তাতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে। এছাড়া ঝাড়ু ফুল উত্তোলনের পর গাছ এবং পাতা দিয়ে গো-খাদ্য তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি পাশের দেশে থেকে ঝাড়ু ফুল আমদানি করার কারণে স্থানীয় বাজার মূল্য কমে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি কামনা করেছেন আব্দুল্লাহ।
বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল জলিল জানান, ঝাড়ু ফুল চাষে দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। তবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঝাড়ু ফুল চাষের পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ফলদ বাগানও সৃজনের প্রয়োজন রয়েছে।
