আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥
বান্দরবানে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে মিলেমিশে মেস্কিছড়া খাল দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রভাবশালীরা। হাফেজঘোনা থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত এক কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে দখলদারদের আগ্রাসনে মেস্কিছড়া প্রধান খালটি যৌবন হারিয়েছে। জেলা শহরের পানি প্রবাহের একমাত্র খালটি দখলের কারণে হাফেজঘোনা, বরিশালপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর মানুষের পানির উৎসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দখল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় খালটি কোথাও কোথাও ছোট্ট হয়ে ড্রেনের মত বোঝা যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বৃহস্পতিবারও জেলা শহরের হাফেজঘোনা স্ট্রিলব্রিজ ও সাঙ্গু স্কুল এলাকায় মেস্কিছড়া খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেই স্থানীয়দের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং অবৈধভাবে খালের ভিতরে তৈরি করা স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও দখল প্রক্রিয়া থামছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন অভিযোগ করে বলেন, মেস্কিছড়া খালের বেশির ভাগ অংশই দখল করেছে জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা ব্যবসায়ী কাজল কান্তি দাশ। তার দেখানো পথেই ঠিকাদার জসিম, জুয়েল, বিএনপি নেতা সাঈদ, পরিবহন শ্রমিকনেতা অমল বাবুর বাগিনা শুভ, ব্যবসায়ী জনৈক নজরুলসহ আরও কয়েকজন মিলেমিলে খাল দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
স্থানীয় হাফেজঘোনা বাসিন্দার চন্দন বিশ্বাস চান্দু বলেন, অর্থবিত্ত এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি হওয়ায় বাধা দেবার পরও তারা খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করেনি। খালের ভিতরে ৫/৬ ফুট পর্যন্ত দখল করে স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। খালটি দখল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় রাস্তাঘাটগুলো ডুবে যায়। সাঙ্গু জুনিয়র হাইস্কুল ও হাফেজঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পারেনা শিক্ষার্থীরা। খালটি দখলমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা সাথী রানী, সুফিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নলকুপ ও আশেপাশের পাহাড়ি ঝরণার পানি শুকিয়ে যায়, তখন মেস্কিছড়া খালের পানিই তাদের দৈনন্দিন কাজের পানির চাহিদা মেটায়। মেস্কিছড়া খালের পানি দিয়ে তালাবাসন ধোঁয়া, গোসল করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পাদন হত। কিন্তু খালটি দখলের কারণে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির কষ্ট পাচ্ছে শ্রমজীবী দরিদ্র শ্রেণীর মানুষেরা। খালটি দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহের পথ সচল রাখার দাবি জানাচ্ছি। তবে খাল দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্তরা বলেন, তারা ক্রয়কৃত জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, নিজের জায়গা ছাড়িয়ে খালের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এবিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া আফরোজ জানান, খাল দখলের অভিযোগ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে নির্মাণ কাজ বন্ধে করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে খাল দখলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
