নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ির পানছড়ির থানার চাঞ্চল্যকর রাকিব হোসেন(২০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ভিকটিমের ঘনিষ্ট বন্ধু আরিফুল ইসলাম(২০) মোঃ জুলহাস(২০)।
মূলতঃ বোনের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে প্রেমিক রাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাশেম(২৪)। সে ঘটনায় ভিকটিম রাকিবের ঘনিষ্ট বন্ধু ও ভাড়াটিয়া খুনি ব্যবহার করে।
ভিকটিম রাকিব পানছড়ির আলী নগর এলাকার মোঃ আলী হোসেনের ছেলে। সে পানছড়ি কলেজে এইচএসসি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, ভিকটিম রাকিবের সাথে একই এলাকার স্থানীয় রিপন মেম্বারের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি মেয়ের পরিবার জেনে গেলে রাকিবকে মারধর করে এবং মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে। কিছুদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর দুজনের যোগাযোগ আবার শুরু হয়।
বিষয়টি জেনে গেলে মেয়েটির ভাই হাশেম রাকিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক হাশেম ভিকটিমের ঘনিষ্ট বন্ধু গ্রেফতারকৃত আসামী আরিফুল ইসলাম ও জুলহাসের সাথে আতাঁত করে।
২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টায় প্রতিবেশী আরিফসহ ভিকটিম মোটরসাইকেলযোগে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।আসামী আরিফের বাড়ী ভিকটিমের বাড়ীর আগে হওয়ায় সে ভিকটিমের মোটরসাইকেল থেকে নেমে সংবাদটি ভাড়াটিয়া খুনি তুলা মিয়াকে জানিয়ে দেয়।
ভিকটিম রাকিব মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল কনকবাগানের দক্ষিন পূর্ব কোনে পৌঁছা মাত্রই ভাড়াটিয়া খুনি তুলা মিয়া ও তার আরো ৪ জন সহযোগীকে নিয়া ভিকটিমের মাথার বাম পাশে ধারালো দা দিয়ে আঘাত করে। এসময় জুলহাস ভাড়াটিয়া খুনিদের সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। আঘাতের পর রাকিব মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে দৌড়ে পার্শবর্তী গ্রেফতারকৃত আসামী বন্ধু আরিফুল ইসলামের বাড়ীতে গিয়ে লুটিয়ে পড়ে।
এসময় আরিফুলের পরিবারের সদস্যরা ভিকটিমের মাথা গামছা দিয়ে বেঁধে দেয়। পরে সেখান থেকে প্রথমে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করে এবং সেখানে ভর্তির পর ভোরে তার মৃত্যু হয়।
ওই দিন অর্থ্যাৎ ২০ জানুয়ারী নিহত রাকিবের বাবা আলী হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে পানছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্তে তুলা মিয়াকে আসামীকে দেখিয়ে আদালতে মামলার চার্জশীট দেয়। উক্ত চার্জশীটে রাকিব হত্যায় জড়িত আরিফুল ও জুলহাসকে স্বাক্ষী দেখানো হয়। পরিপূর্ণ ছিল না তথ্য উদঘাটন।
তাই মামলাটির বাদী ভিকটিমের বাবা নারাজী দিলে আদালতের নির্দেশে পিবিআই, চট্টগ্রামকে অধিকতর তদন্ত ভার ন্যস্ত করে।
পরবর্তীতে পিবিআই তদন্তের এক পর্যায়ে চলতি বছরের গত ৫সেপ্টেম্বর পানছড়ি বাজার থেকে আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে তোলা হলে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে গতকাল মোঃ জুলহাসকে আটক করা হলে বৃহষ্পতিবার খাগড়াছড়ির আদালতে সেও ১৬৪ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই পরিতোষ দাশ বলেন, মামলাটি হাতে পাওয়ার পর আমাদের অতিরিক্ত আইজি বনজ কুমার মজুমদার এবং পুলিশ সুপার নাজমুল হাসানের দিকনির্দেশনায় কাজ শুরু করি। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান বলেন, আমরা সব সময় মামলার গভীরে গিয়ে তদন্ত করে থাকি। নিজস্ব সোর্স এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হই। তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় মামলার স্বাক্ষী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। পরিকল্পনামাফিক হক্যাকান্ডটি হয়েছে।
অন্য আসামীদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি।
