শুভ্র মিশু
শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। পার্বত্য রাঙামাটির গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান এই অর্থ-বছরের জন্য ৮৩ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়। এতে পর্যটন খাতে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে মূল বাজেটের ১ শতাংশ বা ৬৮ লাখ টাকা।
পর্যটন খাতে বরাদ্ধ এতকম কেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি যেভাবে পর্যটন শিল্পে এগিয়ে গেছে, সেদিক থেকে আমি রাঙামাটিবাসী হিসেবে মনোক্ষুন্ন। অন্যজেলার মতো রাঙামাটিকে একটি পর্যটন বান্ধব জেলা হিসেবে তৈরি করতে,শুধুু আমরা চিন্তা নয়, কাজও করছি। ১২০০ কোটি টাকার একটি পর্যটন বিষয়ক প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রকল্পটি তৈরি করতে আমাদের খরচ হয়েছে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি লুসাই পাহাড়টি পর্যটন স্পট হিসেবে তৈরি করার জন্য জেলা পরিষদ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। তার পাশাপাশি কালিন্দিপুর সুখীনীলগঞ্জ ব্রিজ এবং চিড়িয়াখানাটি ঘিরে যুব সমাজের জন্য উপভোগ্য স্পট তৈরি করতে ইতিমধ্যে আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। যেহেতু পর্যটন বিষয়ক মহাপরিকল্পনা রয়েছে সে জন্য আমরা আপাতত দুই তিনটা স্পট চিহ্নিত করে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ কৌটি টাকার মধ্যে স্পট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই এককোটি টাকা দিয়ে পর্যটন স্পট হয় না। আমরা স্পেশাল প্রকল্পের উপর জোর দিয়ে পরিষদের বাজেটে পর্যটন খাতে বরাদ্ধ কম রেখেছি।
তিনি বলেন, সারাদেশে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এটা লন্ডন থেকে কনসালন্টেট ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। কোভিডের কারণে কাজ কিছুটা থমকে আছে। এতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার সহ সুন্দরবনকে। এখন চিন্তা চলছে আমরা যে ১২শত কোটি টাকার প্রকল্প উপস্থাপন করেছি সেটার সাথে মহাপরিকল্পনায এড যায় কিনা,সেটা নিয়ে যাচাই বাছাই চলছে।
চেয়ারম্যান বলেন, জেলা পরিষদ থেকে আমরা এর বাইরে ছোট ছোট পর্যটন স্পট তৈরি করছি। পাশাপাশি পর্যটক টাওয়ার ও তথ্য সেবা কেন্দ্র তৈরি করছি রিজার্ভ বাজারে। সেখানে পর্যটকরা আসবে ওয়াশ রুম থাকবে, গাড়ি পার্কি করার জায়গা থাকবে, পর্যটকদের তথ্য সেবা কেন্দ্র থাকবে। পর্যটকরা সেখান থেকে তথ্য নিতে পারবে কোথায় কিভাবে যাওয়া যায়। এতে পর্যটকরা উপকার ভোগী হবেন বলে আমরা আশা করছি। এছাড়াও সাজেকে যেভাবে পর্যটক বাড়ছে সেজন্য গাড়ি পাকিং এর আরো জাগয়া আমরা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।
পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজে ওয়াশ রুমসহ যেসব ছোটখাট সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা এই অর্থবছরে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
তিনি আরো বলেন, পার্বত্য জেলার রাঙামাটির উন্নয়নে জেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। সব সেক্টরকে প্রাধান্য দিয়ে পরিষদের কাজ করতে হয়। পরিষদের সীমাবদ্ধ আয় সাপেক্ষে কাজ করতে হয় বিধায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নিতে দেরি হয়ে যায়। তারপরও এই অঞ্চলের গণমানুষের উন্নয়নে পরিষদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নতুন অর্থ বছরের এই বাজেট ঘোষণা করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী।
এ সময় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম, পরিষদের সদস্য অংসুছাইন চৌধুরী, ঝর্না খীসা, বিপুল ত্রিপুরা, মো. আব্দুর রহিম, আসমা আকতারসহ গণমাধ্যমের কর্মীরা।
২০২২-২৩ অর্থ বছরে সরকার হতে উন্নয়ন এবং সংস্থাপন ব্যয়, আপদকালীন খাতে প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ৮০ কোটি এবং জেলা পরিষদের নিজস্ব খাত হতে ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৮৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়।
