আওয়ামীলীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী
কাপ্তাই,লংগদু’র পর এবার রাঙামাটির আরেক উপজেলা জুরাছড়িতে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচীস্থলে আওয়ামীলীগের নয়া কর্মসূচীর পর সংঘাত এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আগামীকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সভা সমাবেশ মিছিলের উপর এই নিষেধাজ্ঞার জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জীতেন্দ্র কুমার নাথ।
এক অফিস আদেশে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩১আগস্ট তারিখে জুরাছড়ি উপজোলার যক্ষাবাজার স্থানে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জুরাছড়ি উপজেলার বিএনপি উদ্যোগে সমাবেশ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন এবং অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর উদ্যোগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারীকে রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবিতে একইস্থান সহ হাসপাতাল এলাকা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করবেন মর্মে সংবাদ পাওয়া গেছে। উপজেলার গুরাছড়ি ইউনিয়নের একই স্থানে একই তারিখে ও সময়ে বাংলাদেশের দুইটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের আহত কর্মসূচীর কারণে জনজীবনের অসুবিধা ও উপজেলার স্বাভাবিক শান্তি শৃঙ্খলা বিঘিœত হওয়ার আশংকায় এবং জনস্বার্থে জুরাছড়ি উপজেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা অবধি জুরাছড়ি উপজেলার যক্ষাবাজার হতে হাসপাতাল এলাকা ও সংলগ্ন এলাকার সকল প্রকার সভা সমাবেশ, মিটিং মিছিল, লোক সমাগম এবং চার বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে চলাচল ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অর্থ উল্লিখিত স্থানে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছি। তবে এ আদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি, জরুরী সেবা, স্বাভাবিক কাজে নিয়োজিত এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের জন্য প্রযোজ্য হবে না।’
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বলছেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু সরকার আইনকে হাতিয়ার করে যেভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচী ভন্ডুল করছে, সেটার কারণে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে যাবে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এইভাবে যেনো আইনের অপপ্রয়োগ না করে। এটা পূর্বনির্ধারিত কর্র্মসূচী ও প্রশাসনকেও অবহিত করেছি। এর আগে লংগদু,কাপ্তাই ও রাঙামাটি শহরের একটি ওয়ার্ডে একইভাবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং যত্রতত্র আইনের এমন ব্যবহার না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন,‘জুরাছড়িতে আমাদের আগষ্টের কর্মসূচী ছিলো। বিএনপির কর্মসূচীর কারণে প্রশাসন হয়ত আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়, এর সাথে আওয়ামীলীগের কোন সম্পর্ক নাই। বরং বিএনপি বিভিন্নস্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও উস্কানি সৃষ্টি করছে। এর দায়তো তাদের।’
