লংগদু প্রতিনিধি
শনিবার সকাল থেকে দিনভর ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে মাইনী ও কাচালং নদীতে মাছ ধরতে নামে নদী পাড়ের লোকজন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লংগদু থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশ দুইটি টিম ভিন্ন ভিন্ন অভিযান চালায় নদীতে। শনিবার বিকালে কাচালং নদীর ফোরেরমূখ, লংগদু লঞ্চঘাট, মধুমাছড়া, জালিয়াপাড়া, জারুলবাগান ও গাঁথাছড়ায় এলাকায় মাইকিং করে মা মাছ ধরতে আসা লোকজনকে মাছ না ধরার অনুরোধ করে পুলিশ। অভিযানে ইউএনও জনি রায়, ওসি আরিফুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে মাছ ধরার কারণে মাছসহ সাত ব্যক্তিকে আটক করে লংগদু থানা পুলিশ। অপরদিকে নৌ-পুলিশের একটি টিমের কাছেও একশ কেজি মাছসহ তিনজন আটক হয়। এ সময় মাছ ধরার বেশ কিছু ছোট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মাছগুলো স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) নিয়মিত হ্রদের দেখভাল করেন। পাশাপাশি বিএফডিসির নিজস্ব হ্যাচারীতে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের পোনা হ্রদে অবমুক্ত করেন। তবে দেশীয় প্রজাতির মা মাছগুলো প্রাকৃতিকভাবেই বংশ বিস্তার করে। দেশীয় মাছ ডিম ছাড়ার মুহূর্তে কাপ্তাই হ্রদের কাচালং ও মাইনী নদীর উজানে চলে আসে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে প্রবল স্রোত বয়ে যায় ফলে মা মাছ এই ¯্রােতে ডিম ছাড়ে। এ সময় নদীর পাড়ের কিছু অসাধু ব্যক্তি মা মাছ ধরতে নদীতে নামে।
এ বিষয়ে লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন বলেন, বর্তমানে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। তবে অতি বৃষ্টির কারনে লেকের প্রবল স্রোতে মা মাছগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ এগুলো ধরতে চলে আসে। আমরা মা মাছ রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু অনেকেই আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে মাছ ধরার চেষ্টা করলে কয়েকজনকে আটক করি। পরে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, জেলা প্রশাসন কর্তৃক গত পহেলা মে থেকে পরবর্তী তিন মাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদে সকল প্রকার মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা বলবত আছে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে দেশীয় সব প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়া শুরু করেছে। প্রশাসন এবং পুলিশ সবাই মিলে চেষ্টা করছি মা মাছ রক্ষা করতে। তবে নদীর পাড়ের লোকজন মাঝ মধ্যেই মাছ ধরতে নেমে পড়ে। তাদের হাত থেকে মা মাছকে রক্ষা করার জন্য আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এছাড়া মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন নৌ-পুলিশকে সাথে নিয়ে নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। আশা করছি সকলের সহযোগীতায় মা মাছ রক্ষার মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে।
Previous Articleপানি বাড়ছে, সাথে বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও
Next Article সম্মাননা স্মারক পেলেন দীপন কুমার ঘোষ
