সুহৃদ সুপান্থ
দুজনেরই রাজনীতির ইতিহাস বেশ বর্ণাঢ্য,রাঙামাটি বিএনপির সোনালী প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন এই দুজন, জেলায় বিএনপির রাজনীতির তরুণদের নিয়ন্ত্রনের জিয়নকাঠিটার বড় অংশটাতেই এদের দুজনের ‘ইশারা’ ও ‘ইন্ধন’ আছে, দলের জেলা থেকে প্রান্ত সবখানেই আছে তাদের দুজনের ছায়া উপস্থিতি কমবেশি থাকেই,জেলা েেক শুরু থেকে কেন্দ্র,সর্বত্রই দুজনের যোগাযোগের পরিধিটাও বেশ ভালোই ! স্থানীয় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে নিজেদের অপরিহার্যটা প্রমাণও করেছে সময়ে অসময়ে। জেলাজুড়ে নেতাকর্মীরা সবাই ভালো করেই জানেন,তাদের খুঁনসুঁটি আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা। আড়ালে আবঢালে চলে সমালোচনা,আলোচনা কিংবা তীর্যক বাক্যবাণও।
কিন্তু বাস্তবতা হলো পেছনে ফেলে আসা সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সময়কালের কোন সময়েই এরা দুজন পরস্পরের মুখোমুখি হননি ! অথচ কী আশ্চর্য, জীবনের মধ্যাহ্নে এসে ঠিকই একই পদে লড়তে ঠিকই মাঠে মুখোমুখি রাঙামাটি জেলা বিএনপির দুই ‘পাইওনিয়র লিডার’ ! এদের একজন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির এবং অন্যজন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ। দুই নেতাই শনিবার রাঙামাটি জেলা বিএনপির কাউন্সিলে লড়ছেন সাধারন সম্পাদক পদে !
দুজনই পেশায় আইনজীবি, পোশাকে আশাকে কেতাদুরস্ত দুজনেরই রাজনীতিতে আছে নিজস্ব কর্মীবাহিনী। পনির জেলা ছাত্রদল হয়ে,জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি,জেলা বিএনপির দুই মেয়াদের সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে মামুন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক, সভাপতি,সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। পড়াশুনা কিংবা জানাশোনায় দুজনই ‘কেউ কাউকে নাহি ছাড়ি’ মতোই অবস্থা। দুজনই আইন পেশায় প্র্যাকটিস করেন রাঙামাটিতেই। মামুনের বাড়তি পাওয়া তার পিতা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম নাজিমউদ্দিন আহমেদের সন্তান হওয়া। এর বাইরে দুজনের যেকেউ হতে পারেন সাধারন সম্পাদক। সর্বশেষ কাউন্সিলে পনির যখন স্বপদেই আবার নির্বাচন করছেন,তখন সাধারন সম্পাদক পদে লড়ে দীপুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মামুন,যদিও পরে কেন্দ্রীয় লবিং-এ ঠিকই সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নিতে পেরেছেন তিনি।
শুধু চলনে বলনেই নয়, কথায়,কাজে, কৌশলে কিংবা কূটকৌশলে দুজনই বেশ সিদ্ধহস্ত,কেউ কারো চেয়ে কম নন। এদের দুজনের যেকেউ সাধারন সম্পাদক হওয়াটা বিচিত্র নয় মোটেই।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, দুই হেভিওয়েট এর লড়াইয়ে ‘কাবাব মে হাড্ডি’ হিসেবে হঠাৎ করেই হাজির বর্তমান সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু। রাজনীতির ক্যারিয়ার বেশ বর্ণাঢ্য না হলেও গত দুই দশক ধরেই বিএনপির সাথেই গাটছাড়া তার। সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে নিজেকে কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রমাণও করেছেন নানা সময়ে। পনিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দীপুর এবার নির্বাচন না করারই কথা শোনা যাচ্ছিলো বেশ আগে থেকেই। পনিরকে মাঠ ছেড়ে দিয়ে নিজেকে পনিরের জন্যই উৎসর্গ করবেন,এমন কথাই শোনা যাচ্ছিলো। কিন্তু ‘অজানা ইশারা’য় তিনি ফের নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন,তার হয়ে শেষ মুহুর্তে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন বাঘাইছড়ি বিএনপির দুই নেতা,যার পেছনে ‘দলীয় কার্যালয় বেইজড’ কিছু সিনিয়র নেতার ইশারার কথা বলছেন,কেউ কেউ। ফলে পনির-মামুনের লড়াইয়ের ফাঁকে ফের তার স্বপদে ফিরে আসাটা মোটেই অবাক হওয়ার কিছু নাই।
পনির-মামুন এবং দীপুর ত্রিমুখি লড়াইয়ে কে শেষাবধি সাধারন সম্পাদক হবেন বলা মুশকিল এখন। কারণ পনির-মামুনের কাংখিত ‘দ্বৈরথ’ হুট করেই ‘ত্রিমুখি লড়াই’-এ রূপ নেয়ায় পাল্টে গেছে ভোটের হিসাব নিকাষ। ১৫৪ কাউন্সিলরের অন্তত: ৩০ জন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছেন। কি করবেন সেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন যেনো,এই ৩০ জনের ভোটই পাল্টে দিবে কিংবা তৈরি করে দিবে নতুন সাধারন সম্পাদকের চেয়ার, এমনটাই বলছেন বিএনপির রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠ অন্তত: পাঁচটি সূত্র। তারা বলছেন- ত্রিমুখী লড়াইয়ে শেষাবধি কার কপাল পোড়ে,সেটা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন দলটির সকল নেতাকর্মীরাও।
