কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
জমে উঠেছে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী, ৪নং কাপ্তাই ও ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। আগামী ১১ নভেম্বর এই ৩ ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই চেয়ারম্যান এবং সদস্য প্রার্থীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট চাইছেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যদিও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিৎমরম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমা এবং কাপ্তাই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সজিবুর রহমান প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ায় অনেক প্রার্থী ভয় এবং শঙ্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন বলে প্রার্থীরা জানান।
সরেজমিন এই প্রতিবেদক গত মঙ্গলবার কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নে গিয়ে দেখতে পান এই ইউনিয়নে হেভিওয়েট ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিরামহীনভাবে তাদের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হিসাবে চিহ্নিত এই ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক থোয়াই সা প্রু চৌধুরী(রুভেল)। যদিও শুরুতে তাঁর মনোনয়ন নিয়ে রাইখালী ইউনিয়নের দলের নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিলে এখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে গত ৩০ অক্টোবর রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল হক, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, সহ সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য দীপ্তিময় তালুকদার, সহ সভাপতি বির্দশন বড়ুয়া, সুব্রত বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলীল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী থোয়াইচিং মারমা উপস্থিত থেকে রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদে বর্ধিত সভায় দলের নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ তালুকদার জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক এবং শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে আমরা ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী রুভেল তাঁর জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে পাহাড়ে যে উন্নয়ন হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় জনগণ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দিবেন।
এই ইউনিয়নে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং রাইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি (দল হতে অব্যাহতি পাওয়া) মংক্য মারমা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত সময়ে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় সুষ্ঠু ভোট হলে আমি বিজয়ী হবো।
এই ইউনিয়নে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকারী এনামুল হক চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এনামুল হক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় গত মঙ্গলবার কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, এই ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সদস্যের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে আমি করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় জনগণ আমাকে ভোট দিবে।
এই ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ২৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৩ হাজার ১শত ৩ জন।
কাপ্তাইয়ের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়নে ফুরফুরে মেজাজে নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নধারী দুই বার চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ। এই ইউনিয়নে তাঁর একমাত্র প্রতিপক্ষ কাপ্তাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দল হতে অব্যাহতি পাওয়া মহিউদ্দিন পাটোয়ারী বাদল ইতিমধ্যে ইউপি সদস্য সজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের আসামি হয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন। দৃশ্যত বাদলের কোনও নির্বাচনে প্রচারণা চোখে পড়ে নাই।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী লতিফ এই প্রতিনিধিকে বলেন, বিগত সময়ে এই সরকারের আমলে এই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য কোন সরকারের আমলে হয় নাই। তারই ধারাবাহিকতায় জনগণ নৌকা মার্কাকে আবারও জয়ী করবে।
এই ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ২৩ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১১ হাজার ৬ শত ৪ জন
৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান চিরঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিরতিহীন প্রচারণা করে আসছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। তাঁর একমাত্র প্রতিপক্ষ আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী আপাই মারমা অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা তাঁর নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন। তিনি শিলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বড়ইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বড়ইছড়ি বাজার সংলগ্ন সাবেক ইউপি ভবন, ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাক্রাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়াতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান।
এই ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ২০ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে ভোট ভোটার ৭ হাজার ২ শত ৭৪ জন।
কাপ্তাই থানার ইনচার্জ মো. নাসির উদ্দীন এবং চন্দ্রঘোনা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক মাঠে আছেন। যেহেতু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে তাই আমরা অনেক প্রার্থীকে নিরাপত্তা দিয়েছি, যাতে তাঁরা নির্ভয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারে। তাছাড়া যেকোনো প্রার্থী নিরাপত্তা চাইলে আমরা সাথে সাথে তাদের নিরাপত্তা বিধান করবো।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, কাপ্তাইয়ে অতীতেও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে আশা করছি এই নির্বাচনও অবাধ সুষ্ঠু হবে।
