সুহৃদ সুপান্থ
সেই ২০১২ সালে জেলা সম্মেলনের পর পেরিয়ে গেছে ৯ বছর। এই দীর্ঘ সময়েও নতুন সম্মেলনের কোন আলোচনা বা সম্ভাবনা উঁকি দেয়নি কখনই। দুই বছরের মেয়াদ পেরিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতায় যোগ হয়েছে আরো সাত বছর, তবুও রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সম্মেলন যেনো অধরাই। এমনকি ১৬ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায়ও একজন ছাড়া কারো কন্ঠেই ছিলোনা নতুন সম্মেলনের দাবিও। একাট্টা যুবলীগ নেতাদের রাঙামাটি জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে মুহুর্মুহ তালিতে বোঝারও উপায় নেই এই ইউনিটটা প্রায় এক দশক সম্মেলনহীন ! যেনো দরকারই নেই সম্মেলনের! অথচ এই সময়ে একাধিকবার বদলেছে কেন্দ্রীয় কমিটিও।
এমন ‘অবাক যূথবদ্ধতা’ দেখে বিস্মিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও শেখ পরিবারের সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈমও। নিজের বক্তৃতায় চাপা রাখলেন না সেই বিস্ময়। বললেন-‘ এই রুমের মধ্যে যা দেখলাম,আপনারা এখানে সবাই ঐক্যবদ্ধ, আমি খুবই খুশি। আশা করি আপনাদের মনে যেটা আছে,মুখেও সেটা আছে, এই জিনিসটা আমি আশা করি। আমি এখানে আর কিছু খোদাই করতে চাইনা, ব্যাপারটা কি, এত ভালো কিভাবে, আমি এতকিছু চিন্তা করতে চাইনা। আমাকে যেটা আপনারা বলবেন আমি সেটাই গ্রহণ করব, আপনারা যেটা আমাকে বলবেন না,সেটা আমি জানিনা। যদি না বলেন এটা আপনাদের ব্যর্থতা বলতে পারেন। আপনারা সেন্ট্রালকে জানাতে চাননা চলতে পারেন, এটাতে তো আর আমার কিছু করার নাই। আমার মাথায় তো আর জট নাই যে, আমি বুঝে যাব আপনাদের মনে কথা। আমি আশা করি আপনারা সঠিক কথাই বলেছেন এবং আমি গ্রহণ করলাম।’
শেখ নাঈম আরো বলেন-‘এখানে এসে আপনাদের কাছে শুনলাম,সবাই আপনারা ঐক্যবদ্ধ,যেটা খুবই ভালো। আমি আসলেই এরকম কোথাও দেখি নাই।এটা কিন্তু আমি আসলেই মুগ্ধ আপনাদের দ্বারা। আপনাদের এখানে কোন সমস্যা নাই,সবাই এখানে আপনারা একসাথে কাজ করছেন,যদিও আমি রাজনৈতিকভাবে আপনাদের কোন এক্টিভিটি দেখি নাই বা পুরোটা আমি বলতে পারব না।’
সভায় বক্তব্য রাখা স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের প্রায় সবাই আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান। এরই জবাবে শেখ ফজলে নাঈম তার বক্তব্যে বলেন-‘ কিছু কিছু সমস্যার কথা যে আপনারা বলেছেন,আঞ্চলিক দলগুলোর কথা, যে ইলিগ্যাল আর্মস আছে,সেগুলা রিকভার করার কথা, এই জিনিসগুলো আমি আমাদের যুবলীগের চেয়ারম্যান সাহেবকে তো আমি জানাবই, আমি চেষ্টা করব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কানেও দেয়ার। এখন করোনার সময়, একটু রেসট্রিক্টেড,এখন খুব কম মানুষ দেখা করতে পারে। আমি চেষ্টা করব যেভাবেই সম্ভব হয়,জিনিসগুলো জানানোর,যাতে আপনাদের যে সমস্যাগুলো সেগুলার সমাধান আমরা করতে পারি। কারণ রাজনীতি করতে গিয়ে যদি আমার এই কথা চিন্তা করতে হয় আমার মৃত্যু হতে পারে,সেটা হলে তো ডিফিকাল্ট রাজনীতি করা। আপনারা যে এতো সাহস নিয়ে রাজনীতি করছেন এখানে আপনাদেরকে আমি স্যালুট জানাই।’
যুবলীগকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার নির্দেশনা দিয়ে এই কেন্দ্রীয় নেতা আরো বলেন, যুবলীগকে আরো শক্তিশালী করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, ‘আপনারা যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেন,তবে আপনাদের কর্ম দ্বারা সেটা প্রমাণ করতে হবে। শুধু মুখে বললে হবেনা।’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা ইনএ্যাকটিভ,যারা রাজনীতি করেনা,অথচ পোস্ট নিয়ে বসে থাকে সেই ধরণের মানুষ আমরা চাইনা। কারণ বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ করতে কাউকে ডেকে আনতে হবেনা। অনেক মানুষ বসে আছে বাংলাদেশ আওয়ামীযুবলীগ করতে বসে আছে। কিন্তুচান্স পাচ্ছেনা। আপনাদের দায়িত্ব তাদের তুলে আনা।’
এদিকে এদিন বর্ধিত সভায় অংশ নেয়া বেশিরভাগ নেতাকর্মীর মনে নতুন সম্মেলনের কোন নির্দেশনা আসে কিনা সেই বিষয়ে আগ্রহ ও আলোচনা থাকলেও ‘অজ্ঞাত’ কারণে মনের আকাংখাকে মুখে আনার সাহস দেখাতে পারেননি কেউই।
বর্ধিত সভায় অংশ নেয়া এক জেলা নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, ‘নতুন সম্মেলন তো আমরা সবাই চাই। কিন্তু কে মুখ খুলে কার বিরাগভাজন হবে। তাই সবাই চুপই ছিলো। প্রত্যেক বক্তার বক্তব্যের সময়ই ভেবেছি কেউ না কেউ তো বলবে,কই একজন ছাড়া তো কেউই বলল না। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় নেতারাও এই বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে জেলা সম্মেলন হওয়াটা জরুরী।’
তবে জেলা যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা জানালেন, ‘বর্ধিত সভায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরাও স্থানীয় রাজনীতির প্রধান প্রতিবন্ধকতা আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছি,অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি বলেছি। এখানে সম্মেলন বিষয়ে আলোচনার সুযোগ হয়ত ছিলো,কেউ আলোচনা না করলে তো আমাদের কিছু বলার নাই। তবে কেন্দ্র যখনই চাইবে আমরা তখনই সম্মেলন করতে প্রস্তুত আছি।’
