শংকর হোড় ॥
কাপ্তাই হ্রদে নৌ পরিবহনের ক্ষেত্রে ছাদে পর্যটক পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। একই সাথে নৌ পরিবহনে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ও মাইক ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বুধবার নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় নৌ যান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীগণ বলেন, কাপ্তাই হ্রদে বিভিন্ন সময়ে পর্যটক পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে নৌ দুর্ঘটনায় পর্যটকদের মৃত্যু হয়েছে। পুনরায় যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া নৌ যানে পর্যটক ও স্থানীয়রা বিনোদনের জন্য উচ্চস্বরে সাউন্ড ব্যবহার করছে। এতে শব্দদূষণের কবলে পড়েছে রাঙামাটিবাসী।
এরই প্রেক্ষিতে সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তার মধ্যে ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষেধ, বোটে মাইক, সাউন্ড বাজানো নিষেধ, নৌ যানে সিট সংখ্যার অধিক যাত্রী পরিবহন না করা, প্রত্যেক যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা, নৌ যানগুলোতে পোর্টেবল ডাস্টবিন রাখা এবং সেটা যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, সন্ধ্যার পর নৌযানগুলোতে পর্যটক পরিবহন না করা, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যাত্রীও পরিবহন করা যাবে না এবং মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
জানতে চাইলে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল বলেন, রাতের বেলায় নৌ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি, তাই তো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতের বেলা যাতে হ্রদে নৌ পরিবহন চলাচল নিষেধ রাখা প্রয়োজন। এছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চস্বরে মাইক, সাউন্ড বাজানো বন্ধ রাখা হোক। জেলা প্রশাসন ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষেধসহ সাউন্ড বাজানো ও লাইফ জ্যাকেট পরিধানের জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা ইতিবাচক। আমরা এর সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ চাই।
এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি টেম্পু বোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. সোলাইমান বলেন, সভায় আমাদেরকে ডাকা না হলেও আমরা এসব বিষয়ে পূর্ব থেকেই অবগত আছি। তারপরও জেলা প্রশাসন যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা আমরা মেনে চলবো। কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করে সেক্ষেত্রে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিলে আমরা তাতে বাধা দিবো না।
জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটার পর কাপ্তাই হ্রদে যাতে এই ধরনের কোনও প্রাণহানির আশঙ্কা না থাকে সেজন্য নৌ যান মালিক, শ্রমিকদের নিয়ে সভা করে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এরমধ্যে পর্যটকরা কোনভাবেই ছাদ ব্যবহার, লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবে না। এমনকি শব্দদূষণ প্রতিরোধে বোটগুলোতে মাইক, সাউন্ড বাজানোও নিষেধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয় তদারকির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে। পাশাপাশি নৌ-পুলিশকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
