শংকর হোড় ॥
প্রায় সাড়ে চার মাস পর পর্যটন স্পট খুলে দেয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম দিন রাঙামাটিতে পর্যটকের দেখা মেলেনি। রাঙামাটি শহরের পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্ত সেতু, পুলিশের পলওয়েল পার্ক, সেনাবাহিনীর আরণ্যকসহ আরো বিভিন্ন স্পটে দেখা মেলেনি পর্যটকদের। তবে পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে পর্যটক আসবে এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।
দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর গত ১ এপ্রিল দেশের সব পর্যটন স্পট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। পর্যটন স্পট বন্ধের পাশাপাশি হোটেল-মোটেলও বন্ধ করে দেয়া হয়। হোটেল-মোটেল ও পর্যটনস্পটগুলি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের চরম দুঃসময়ে কাটাতে হয়। স্পটগুলি রক্ষণাবেক্ষণ ও হোটেল-মোটেলের ভাড়া টানতে টানতে এসময় ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত ১১ আগস্ট থেকে সরকার শর্ত শিথিল করে লকডাউন তুলে দেয়। এরপর ১৯ আগস্ট থেকে সব ধরনের পর্যটনস্পটে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে সরকার।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনের শহরের বিভিন্ন স্পটগুলি ঘুরে তেমন একটা পর্যটক পাওয়া যায়নি। অল্পকিছু পর্যটক এদিন ভ্রমণে আসে। অনেকেই মোটর সাইকেল নিয়ে জেলার বাইরে থেকে ঘুরতে এসেছেন আবার কেউ কেউ বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা তানভীর বলেন, অনেকদিন ধরে বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারছিলাম না। গত ১১ আগস্ট সবকিছু স্বাভাবিক হলেও পর্যটন স্পটগুলি বন্ধ থাকায় ভ্রমণের সুযোগ ছিল না। আজ(বৃহস্পতিবার) সব খুলে দেয়ায় প্রথমদিনই ঘুরতে বের হয়ে গেলাম। ভালো লাগছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসতে পেরে।
হিল পার্কের সত্ত্বাধিকারী স্বপন শীল জানান, সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকায় আমরা ব্যবসায়িকভাবে অনেক লোকসানের মধ্যে পড়েছি। সবকিছু খুলে দেয়ায় আশা করছি সামনের দিনগুলিতে পর্যটক ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। তবে প্রথমদিন তেমন কোনও পর্যটক রুম ভাড়া নেয়নি।
পর্যটনঘাটের ইজারাদার মো. রমজান আলী বলেন, প্রথমদিনে তেমন একটা পর্যটক আসেনি। আশা করছি সামনের দিনগুলিতে পর্যটকের দেখা মিলবে। তিনি জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুবলঙের উদ্দেশে ৩-৪টা বোট ঘাট থেকে ছেড়েছে।
পর্যটন কর্পোরেশনের রাঙামাটি জেলার ব্যবস্থাপক সৃজন কান্তি বড়–য়া বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম দিন আমাদের ১% বুকিং পেয়েছি। প্রতিমাসে এই কমপ্লেক্স চালাতে ১০লাখ টাকার মত খরচ হয়। আমার চেষ্টা কিভাবে এই খরচ যোগাড় করবো। তিনি বলেন, এখনো যেহেতু পুরোপুরি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, তাই তো পর্যটকরা এখনই খুব বেশি ভ্রমণে আসবে না। তারপরও বিভিন্ন এনজিও থেকে যেসব প্রশিক্ষণ, সেমিনার হয় সেগুলি কয়েকটা পাইলে মাসিক খরচ উঠানোর চেষ্টা করে যাবো।
রাঙামটি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেছেন, সরকারি নির্দেশনা অনুসারে আমরা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে আমরা কাজ করে যাবো।
