নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান ॥
দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পর বান্দরবানে খুলেছে সকল দর্শণীয় পর্যটন স্পটসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের বরণ করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দর্শণীয় স্থানগুলো এবং আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় কাজগুলো করছেন শ্রমিকেরা। তবে বৃহস্পতিবার পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ার প্রথমদিনে পর্যটকদের আগমন আশানুরুপ হয়নি।
সরেজমিনে বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা গেছে, হাতেগোনা কিছু পর্যটকদের উপস্থিতি রয়েছে জেলা সদরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, নীলদিগন্ত, প্রান্তিকলেকে। তবে থানচি উপজেলায় পাহাড়ের চূড়ায় গড়ে তোলা তমা তুঙ্গী, লিক্রে সীমান্ত সড়কের বাকলাই ঝর্ণা, নাফাকুম, অমিয়কুম, রেমাক্রী জলপ্রপাত, রুমা উপজেলার বগালেক, রিজুক ঝর্ণা, রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম, সদরের রুপালী ঝর্ণা, ফারুকপাড়া ঝর্ণা, আমতলী ঝর্ণার মত আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোতে স্থানীয় এবং আশপাশের জেলা-উপজেলার দর্শণার্থীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাস বলেন, দীর্ঘ সাড়ে চার পর সব পর্যটন স্পট এবং আবাসিক হোটেলগুলো খুলে দিয়েছে প্রশাসন। নো মাস্ক নো সার্ভিস’সহ বিভিন্ন শর্তারোপ করে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সবকিছু খুলে দিলেও প্রথমদিনে আশানুরুপ সাড়া পাওয়া যায়নি পর্যটকের। ধারণা করা হচ্ছে একুশে আগস্টের পর পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হয়ত সময় লাগবে। তারপরও খুলে দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ছুটিতে এবং চাকরী হারানো শ্রমিকেরাও ফিরতে শুরু করেছে।
ট্যুরিস্ট গাড়ি মালিক সমিতির লাইনম্যান মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ায় ট্যুরিষ্ট গাড়িগুলোর চালক-শ্রমিকেরা ধুয়ে মুছে গাড়িগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে জিপ স্টেশনে সাজিয়ে রেখেছে। প্রথমদিনে পর্যটকদের আগমন তেমন না ঘটলেও বহুদিন পর চালক-শ্রমিকদের উপস্থিতিতে সরব হয়ে উঠেছে ট্যুরিস্ট গাড়ির স্টেশনটি।
জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, শর্ত সাপেক্ষে জেলার সবগুলো পর্যটন স্পট, বিনোদন কেন্দ্র এবং আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট বৃহস্পতিবার থেকে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে মাস্ক ছাড়া কোথাও প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। নো মাস্ক নো সার্ভিস। হোটেলে পরিবারের লোকজন একই কক্ষে ধারণ ক্ষমতার সমপরিমাণ লোক থাকতে পারলেও অন্যদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। একটা কক্ষের ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক লোক থাকতে পারবে। নির্দেশনা অমান্য করা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে।
