পুষ্প মোহন চাকমা
রাঙামাটির বিলাইছড়ির মনোরম প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ধুপপানি, ন-কাটাছড়া ও গাছকাটাছড়া ঝর্ণার গল্প দেশের মানুষের অজানা নয়। প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরা ঝর্ণাগুলোয় এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করেন। অনেকে হয়ত এ সবের গবেষণা বা থিসিস কর্ম সম্পাদনেও এসে থাকেন।
কিন্তু পাহাড়ের নৈস্বর্গে এমনই আরও অনেক প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্র্য থাকা স্বাভাবিক তা হয়তবা আমাদের কৌতুহল সীমার অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ থেকেই যায়। আর এমন মার্জিনালাইজড কৌতুহল সীমা অতিক্রম করে আর এক নতুন ঝর্ণার আবিষ্কার করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান। যার নাম ‘মনোরম স্বর্গপুর ঝর্ণা। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সেখানে প্রকল্প কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়ে দিনব্যাপী দুঃসাহসিক সফরকার্য সম্পাদন করে অফিসিয়ালভাবে তিনি ঝর্ণাটির আবিষ্কার করেছেন।
বিলাইছড়ি সদর ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকার ‘ছিনে মোন’ এর পাদদেশে এবং দীঘলছড়ি মোন ও বিলাইছড়ি মোনের মাঝে আপন শোভায় সৌন্দর্য ধারণ করে রয়েছে এ ঝর্ণাটি। ছোট-বড় একাধিক ঝর্ণার পাশাপাশি রয়েছে বিশের অধিক প্রাকৃতিক সুইমিং পুল। এসময়ে ধুপপানিসহ অন্যান্য পাহাড়ি ঝর্ণার পানি শুকিয়ে গেলেও এ ঝর্ণায় এমন গ্রীষ্মের প্রখর খরাতেও রয়েছে অজ¯্র বারি¯্রােত। সুইমিং পুলগুলোতে রয়েছে অগণিত নাড়েই মাছসহ (স্থানীয় নাম) নানা প্রজাতির ছোট মাছ। নাড়েই মাছগুলো পুকুরে চাষ করা মাছে মতই মানুষ দেখলে খাদ্যের আশায় সামনে এসে জড়ো হয়। এ মাস পাড়াবাসীরা ধরে না। যারা ধরবে প্রমাণ মিললে জরিমানা রয়েছে অনিবার্য। প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ তাদের এক প্রশংসনীয় সামাজিক বিধান। আজ প্রায় দুই বছরেও এ বিধান লঙ্ঘিত হয়নি তাদের।
প্রধান ঝর্ণাটিকে স্থানীয়রা ‘দেবতা মরং’ বলে থাকলেও তাদের পাড়ার বর্তমান বৌদ্ধ বিহারের নাম স্বর্গপুর মনোরম বৌদ্ধ বিহার। এই বিহার এর নামের আলোকেই ইউএনও’র পরামর্শে পাড়াবাসীরা ঝর্ণাটির নাম ‘মনোরম স্বর্গপুুর ঝর্ণা’ নামে সদ্য নামকরণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান এলাকাবাসীকে সতর্ক করে বলেন, এটির প্রাকৃতিক রূপ যেন একটুও নড়চড় না হয়। ছড়ার পাথর যেন একটাও তোলা না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। না হয় পানি থাকবে না, থাকবেনা এমন প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যও। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে পারলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে পর্যটক এসে ভিড় জমাবে। এতে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটকদের সহায়তা প্রদান করতে পারলে অত্র পাড়ার জনগণ আর্থিক স্বচ্ছলতা লাভ করতে পারবে নিঃসন্দেহে।
