নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনাভাইরাস মহামারী থেকে মুক্তি আর দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাওয়ার প্রার্থনায় বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা করলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাঙামাটি জেলা শহরসহ পুরো জেলায় মঙ্গলযজ্ঞ, আরতি আর ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিতে সিক্ত হলেন শ্বেত পদ্মে আসীনা বীণাপাণি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী তিনি, যার হাতে আছে বীণা আর বই। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সাদা রাজহাঁসে চেপে দেবী ধরায় আসেন। মর্ত্যলোকে ভক্তরা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে পূজার অর্ঘ্য নিবেদন করেন।
গোটা জেলাতেই বিভিন্ন মন্দিরের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ঐতিহ্যগতভাবে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয় প্রতিবছরই। তবে মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পূজার আনুষ্ঠানিকতায় সেই আড়ম্বর ছিল না এবার। স্বল্প পরিসরে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজার আয়োজন করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে।
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি), রাঙামাটি সরকারি কলেজ, রিজার্ভবাজার গীতাশ্রম মন্দির, তবলছড়ি, ভেদভেদী, গর্জনতলী, কাঁঠালতলীসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পুজো অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার সকাল দশটায় রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শুরু হয় বাণী অর্চনা। পুরোহিত ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল লোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যংদেহী নমোহস্তুতে’ মন্ত্রপাঠ করে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। এরপর শিক্ষার্থী দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেন।
এর আগে সকাল ১১টায় রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষার্থীদের এই বনার্ঢ্য আয়োজনে ছিল দুপুরে প্রসাদ বিতরণ ও বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক আয়োজনের সাঙ্গ হয় সন্ধ্যায়। এতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন ও রাঙামাটির স্থানীয় ব্যান্ড দল ড্রিমস্ গান পরিবেশন করে।
রাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রতিবছর এই দিনটিতে আমরা মায়ের আরাধনা করি। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্যান্যবারের মতন পুজোর আয়োজন ছিল না। তাই আমাদের প্রত্যাশা মা যেন করোনা দূর করে দেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাতে দ্রুত খুলে যায়। আমরা ক্যাম্পাসের ক্লাসে ফিরতে যাই।
