মুফিজুর রহমান, নাইক্ষ্যংছড়ি
মিয়ানমার সীমান্তঘেষা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমে গড়ে উঠেছে প্রায় ডজনখানেক ইটভাটা। আর এসব ইটভাটায় প্রকাশ্যে পুড়ানো হচ্ছে বনের জ¦ালালি কাঠ। কাটা হচ্ছে পাহাড় ও চাষি জমির উপরি অংশের মাটি। এ ছাড়া ব্যবহার হচ্ছে টিনের চিমনি। এখানে উড়ছে কলো ধোঁয়া ও অস্বাভাবিক ধুলাবালি। আর কাগজপত্র বলে কিছুই নেই তাদের কাছে! শুধু আছে প্রভাব আর দাপট। ফলে দিন দিন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কমছে চাষি জমি আর উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। আর এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর।
সীমান্ত এলাকা ঘুমধুমের জনবহুল এলাকার মাঝে ডজনখানেক ইটভাটার একটি গড়ে তোলা হয় ২৬৭ নম্বর ঘুমধুম মৌজার আজুখাইয়া গ্রামে। পাশেই রোহিঙ্গা কুতুপালং শিবির। একটি প্রভাবশালীচক্র ইটভাটাটি গড়ে তুলেন। স্থানীয়রা জানান, এ ইটভাটায় প্রকাশ্যে রাত-দিন পুড়ানো হচ্ছে জ¦ালালি কাঠ। রোহিঙ্গাদের কমদামে কাজ করান মালিকরা। চারপাশে ধুলো আর কালো ধোঁয়ায় একাকার গ্রামগুলো। টিনের চিমনী ব্যবহার করেই আইন ভঙ্গ শুরু করে চক্রটি। আর পাহাড় ও চাষের জমি কেটে সাবাড় করা মাটির স্তুপ রয়েছে বেশ। কাঠের স্তুপ তো আছেই।
জানা গেছে, ইট ভাটার মালিকের একজন আবুল কালাম মেম্বার। তার ইটভাটা দেখভাল করেন রশিদ আহমদ নামের এক ব্যক্তি। ইটভাটার কোন ধরনের কাগজপত্র নেই। ইটভাটার জন্যে রাখা বড়বড় কাঠের স্তুপের পাশাপাশি আবুল কালাম মেম্বার গড়ে তুলেন একটি করাত কল। যেখানে রয়েছে আশপাশের বনের শতশত ফুট কাঠ। একই স্থানে এভাবে দু’অবৈধ পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগসহ সকলে রহস্যময় নীরবতায় আছেন। সচেতনরা বলছেন, সবাই ‘ম্যানেজ’ এ জন্যে জনর্স্বাথ তুচ্ছ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের কাছে। প্রশাসনের লোকজন আসে আর যায়। মাঝে-মধ্যে আইওয়াশ করে। একই কায়দায় একই গ্রামে রয়েছে আরেকটি ইটভাটা।
এভাবে এই ইউনিয়ন ও এলাকায় গড়ে উঠে আরও বেশ কয়েকটি ইটভাটা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২৬৮ রেজু মৌজার আলী আহমদ কোম্পানী নামীয় আবু ছৈয়দের ইটভাটা। এই ইটভাটাঘেষেই মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের জোন রয়েছে। এ ইটভাটা পরিচালনা আবু ছৈয়দের সহায়তায় রয়েছে আলী আহমদ কোম্পানীর এক ছেলে। ২৬৮ নম্বর রেজু মৌজার হিল্লুল বড়–য়া পলাশের নামীয় ইটভাটা কিনে নেয় শহিদুল হুদা। তিনি ২৬৮ একই মৌজার আসিফ মোহাম্মদ সাইফুদ্দীনের ইটভাটাটিও কিনে নেন চুক্তিতে। একই কায়দায় একই মৌজায় আরও বেশ ক’টি ইটভাটা রয়েছে। যেগুলো গিলে খাচ্ছে পাশের বন, খুড়ে খাচ্ছে চাষি জমি, নষ্ট করছে পরিবেশ-রাস্তাঘাট। আর এসব ইটভাাটার মালিকরা প্রশ্রয় দিচ্ছে রোহিঙ্গাদেরকে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগও রয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই বক্তব্য তারা কাগজপত্র ছাড়াই এ ইটভাটা করে যাচ্ছেন। কেউ আসলে তাদের ম্যানেজ করা হয়। সরকারের অনুমোদন ছাড়া গড়ে উঠা এসব ইটভাটা দিনের পর দিন এতো ভয়ানক অপরাধ করে যাচ্ছে প্রকাশ্যে, কিন্তু ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেউ।
এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ভাই আমরা বাদ। ওরা প্রভাবশালী, তাদের হাত অনেক লম্বা। তাদের সম্পর্কে আমি কিছুই বলব না। পারলে সহযোগিতা নেন, করবো। সব অবৈধ। আইন না মানার কর্মকা-। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন কচি জানান, ঘুমধুমসহ উপজেলা কোন ইটভাটারই বৈধ কাগজপত্র নেই।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ে একাধিবার যোগাযোগ করেও কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইন বলেন, তিনি শুনেছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘমুধুমসহ সবখানে এ অনিয়ম হচ্ছে। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন বান্দরবান অফিসকে, দ্রুত যেন ব্যবস্থা নেন।
