রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর ধস নেমেছিলো জেলার সড়ক গুলোতেও। ১৩ জুন পাহাড় ধসের পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরীসহ রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-বান্দরবন সড়ক। ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর আংশিকভাবে চালু হয় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কপথ। এছাড়া বাকি দুই জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছিলো প্রায় এক মাসের বেশি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুত্রে জানা যায়, পাহাড় ধসের পর সব রাস্তাঘাট গুলোতেই দেখা দিয়েছে ধস ও ক্ষতের চিহ্ন। এরমধ্যে ঘাগড়া শালবান এলাকা ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের তিনটি অংশে সম্পূর্ণ মাটি ধসে যায়। এছাড়া ১৪৫টি স্থানে রাস্তায় ক্ষতের প্রভাব পড়েছে। এরমধ্যে ১১৩ টি স্থানে রাস্তার পাশের মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ন হয়ে যায় সংযোগ সড়ক। আর বাকিগুলো নানাভাবে ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। ধসে যাওয়া সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ এখনো কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন জানান, ঘাগড়া শালবন এলাকায় ধসে যাওয়া রাস্তায় ভারি যান চলাচল করতে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজে সর্বোচ্চ ২২টন লোড নিতে সক্ষম। এছাড়া জেলার মোট ১১৩টি স্থানে রাস্তার পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সড়ক গুলো ঝুঁকিপূর্ন হয়ে যায়, এখন ১১৩টি স্থানে গাছের বল্লি ব্যবহার মাটি ভরাটের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। এছাড়া আগামী একমাসের মধ্যেই জেলার সব রাস্তাঘাট সংষ্কার করা যাবে বলে আশাবাদী এই প্রকৌশলী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরাদ্দের বিষয়ে এই প্রকৌশলী জানিয়েছেন, আমাদের এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ আসেনি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দের সম্মতি পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় ১২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে জেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিলো প্রায় ৩ হাজার মানুষ।

১ Comment
এখনো অনেক মিস করি।।।।।