অবশেষে রাঙামাটিতে যুবলীগ নেতা নাসিরের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে । আহত নাসিরের পরিবারের পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ আর ‘সময়ক্ষেপন’র পর,বৃহস্পতিবার রাতে রাঙামাটির কোতয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন যুবলীগ নেতা নাসিরের স্ত্রী মোছাম্মদ সালেহা আক্তার। মামলা নং-২৪,তারিখ-৩০-০১-২০২০। ‘বেআইনী জনতাবদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে’ ১৪৩,৩০৭,৩২৬ এবং ৫০৬ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করেছে পুলিশ।
কোতয়ালি থানায় দায়ের করা এই মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজনসহ ৮ ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা হলেন-রাঙামাটি শহরের ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আরিফ,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন,জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মোঃ মিজান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ শাকিল,ছাত্রলীগ কর্মী আজমীর,কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর দে,পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব খান ।
লিখিত অভিযোগে সালেহা আক্তার বলেন, ‘ আসামীরা তার স্বামীকে প্রত্যাশা ক্লাবে ডেকে নিয়ে যায় এবং ক্লাবের ভেতরে প্রবেশের সাথে সাথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে সকল আসামীগণ আমার স্বামীকে গলা কেটে জবাই করার উদ্দেশ্যে হাত পা মুখ চেপে ধরে মাটিতে শুয়াইয়া ফেলে এবং বাম পায়ের গোড়ালির রগ কেটে দেয় এবং এলোপাথারি কোপাইয়া গুরুতর আহত করে। পরে আসামীরা আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে ভেবেছে সদর হাসপাতালের বাইরে অন্ধকারে ফেলে পালিয়ে যায়।’
মামলা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটির কোতয়ালি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি জানিয়েছেন, আমরা অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে এবং পরিবারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে মামলাটি নিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এখন যেহেতু মামলাটি হয়েছে,আইন তার স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।’
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাঙামাটি শহরের ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ নাছিরউদ্দিনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ কয়েকজন যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। আহত নাসির সরাসরি কয়েকজনের চিনেছেন বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীদের। তবে অভিযুক্তদের একজন রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুজন, এই ঘটনার সাথে তার নাম জড়ানোকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনার পর তিনদিন ধরেও থানায় দফায় দফায় গিয়েও মামলা করতে না পারায়, পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন আহত যুবলীগ নেতা নাসিরের মা হামিদা বেগম ও স্ত্রী সালেহা আক্তার। তবে পুলিশ ‘পরিবারের সিদ্ধান্তহীনতা’কেই মামলা না হওয়ার জন্য দায়ি করেছিলো। অবশেষে ৩০ জানুয়ারি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে, গভীর রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ।
যা বলেছিলেন আসামীরা
এদিকে যে নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন,সেই মামলার দুই নম্বর আসামী ও রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ঘটনার পর পরই দাবি করেছেন, ওই ঘটনার সময় তিনি বনরূপায় একটি দলীয় সভায় কর্মীদের সাথেই ছিলেন এবং নাসির তাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়েই জড়াচ্ছে’। সুজন এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন। সুজন বলেছেন, ‘আমি এই ঘটনার সাথে কোনভাবেই জড়িত নই।’
এই মামলার আরেক আসামী জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মোঃ মিজান দাবি করেছেন, এই ঘটনার সাথে তিনি কোনভাবেই জড়িত নন এবং নাসিরের সাথে তার একসময় খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিলো। নাসির কেনো তাকে দায়ি করছে, বুঝতে পারছেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যা বলছেন নাসিরের মা ও স্ত্রী
অন্যদিকে নাসিরকে ‘হত্যাচেষ্টা’ করা হয়েছে দাবি করে তার মা হামিদা বেগম বলেছেন, আমার ছেলে যেই দলের জন্য সারাটাজীবন উৎসর্গ করলো,সেই দলের নেতাকর্মীরাই তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, এই কষ্ট,এই দু:খ আমি কোথায় রাখি ! তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, একটুর জন্য আমি সন্তান হারা হইনি। আর কোন মায়ের সন্তান যেনো এমন অন্যায়ের স্বীকার না হয়।’ হামিদা বেগম এই ঘটনায় দীপংকর তালুকদারের সাথে দেখা করবেন জানিয়ে আরো বলেছেন, কর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা নেতাদেরকেই দিতে হবে। তাদের প্রতি অন্যায় যেনো না হয়,সেটাও দেখতে হবে।’
নাসিরের স্ত্রী ও মামলার বাদী সালেহা আক্তার বলেছেন, আমার স্বামীকে যারা হত্যার চেষ্টা করেছে,আমি তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আওয়ামীলীগের নেতারা যদি বিচার না করেন, আইনের কাছেও যদি প্রকৃত বিচার না পাই,তবে আমি আল্লার কাছে বিচার চাইব।’ তিনি বলেন, ‘ যারা আমার স্বামীকে তুচ্ছ রাজনৈতিক কারণে হত্যা করতে চেয়েছে,তাদেরই একদিন একই পরিণতি হবে।’
