শনিবার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণে রাঙামাটির ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় ছড়ার প্রবল স্রোতে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের পাশে ধস নামে। এতে পুরো সড়ক ধসে যাওয়ার ঝুঁকিতে বেড়ে যায়। ফলে সড়কটি রক্ষা করতে গত পাঁচ দিন ধরে প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
কিন্তু তারা কোনো সফল সমাধান করতে ব্যর্থ হয়। বল্লি প্যারাসিডিং দিয়েও ভাঙন রোধ করতে পারেনি। বরং ৩০ মিটারের ভাঙন বেড়ে ৩৫ মিটার হয়ে গেছে। পানির স্রোত এতো বেশি যে কোনো কিছু দিয়ে প্রাথমিক বাঁধ দিতে পারছেনা তারা।
বৃহস্পতিবার এ কাজে কর্মরত শ্রমিক সুমন জানায়, তারা ভাঙন রোধে কম করে ১০ হাজার পাথর ভর্তি বস্তা ডাম্পিং করেছে। কিন্তু এখন সেখানে একটি বস্তাও নেই। সব স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এ কাজের মাঝি রমিজ উদ্দিন বলেন, তার ৫০ শ্রমিক দিন রাত কাজ করেও ভাঙন রোধ করতে পারছে না। অনেকটা হতাশ হয়ে সড়কের ওপরে এসে বসে আছে তারা।
অন্যদিকে ছড়ায় তাকাতেই চোখে পড়ল খয়েরি রঙয়ের পোশাক পরা ১০/১৫ জনের একটি দল বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজেদের মত আপন মনে কাজ করে যাচ্ছে। পাশে যেতেই বোঝা গেল তারা ভিডিপি দলের সদস্য। কত মুজুরিতে কাজ করছে জানতে চাইতে শফিক উদ্দিন নামের একজন বলেন, ‘আমরা টাকার বিনিময়ে কাজ করছি না, স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছি। শুধু মাত্র রাস্তাটা রক্ষা করার জন্য। সকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু বৃষ্টি আর প্রবল স্রোত সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারপরও কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার মানুষের জন্য, তথা দেশের জন্য। আমরা চাই সড়কটি রক্ষা পাক। এই সড়ক ভেঙে গেলে রাঙামাটি সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্নই হবে না রাঙামাটিবাসীর বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাবে। দেখতেই পাচ্ছেন সড়কের উপরেই বিদ্যুতের খুঁটি।’
