নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাঙামাটিতে দিবসটি পালন করেছে বনবিভাগ। শুক্রবার সকালে কাপ্তাই উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ উদ্যোগে পদযাত্রা ও প্রশান্তি পার্কে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ছালেহ মো. শোয়াইব খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চলের বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ.ন. ম আব্দুল ওয়াদুদ। রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হক মুরাদ কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আব্দুল লতিফ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বন্য হাতি সুরক্ষায় সকলকে সচেতন হতে হবে। রাঙামাটি জেলার বেশ কিছু এলাকায় বন্য হাতি বাস করে। তার মধ্যে অন্যতম এলাকা হচ্ছে কাপ্তাই। এখানে প্রায়ই মানুষ আর বন্য হাতি মুখোমুখি হয়ে মানুষ প্রাণ হারাছেন। বক্তারা আরও বলেন, হাতি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে চলাচল করে। আমরা তাদের করিডোর বসতি স্থাপন করেছি। তাই হাতি সেগুলোতে আক্রমণ করে। এছাড়া বন উজাড় হওয়ায় হাতির খাদ্য সংকট দেখা দিলে, ক্ষুধার তাড়নায় মাঝে মাঝে হাতি লোকালয়ে চলে আসছে। তাই সকলকে বন নিধন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়।
কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত গুল্মলতা, বাঁশ হাতি খাবার হিসাবে খেয়ে থাকে। আর খাবারের সন্ধানে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায় হাতির দল। বন উজাড়ের ফলে পাহাড়ে প্রাকৃতিক খাবার, ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে বন্য হাতির খাবার ও পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এখন থেকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে রাঙামাটি হাতিগুলি বিলুপ্ত হয়ে যেতে বাধ্য। আর লোকালয়ে হাতি আক্রমণ রোধে সোলার ফেন্সিং সিস্টেম বসানোয় বন বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এই জনপ্রতিনিধি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ. ন. ম আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বন্যহাতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এদের রক্ষায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বয়স্ক ও বাচ্চাসহ আনুমানিক ৪৬টি বন্যহাতি কাপ্তাই বনাঞ্চল এলাকায় বিচরণ করে থাকে। এছাড়া জেলার লংগদু, রাজস্থলী, কাউখালীতেও কিছু হাতি রয়েছে। লোকালয়ে হাতি চলে আসলে তাকে উত্তেজিত না করে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দেয়র অনুরোধ জানান এই বন কর্মকর্তা।
