রাঙামাটি শহীদ মিনারের পথ ধরে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে শুরু হওয়া ওয়ার্ডটির সীমারেখা শেষ হয়েছে রাঙামাটির টুঙ্গিপাড়া খ্যাত মাঝেরবস্তিতে। মাঝে খাদ্যগুদাম এলাকা,আনন্দবিহার,রিজার্ভমুখ,পুলিশ হাসপাতাল,রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডিসি বাংলো, পলওয়েল পার্ক, পুনাক এলাকা,কর্মচারি কোয়ার্টার,প্রবীন পার্ক এলাকা,বন্ধু যীশু টিলা, টেক্সটাইল মার্কেট ও কালিবাড়ি এলাকা,সবই এই ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে বেশিরভাগ কাউন্সিলই নির্বাচিত হন মাঝেরবস্তি এলাকা থেকে। মাঝে মাঝে কখনো কখনো নাজমুল কিংবা নিয়াজের মতো কেউ কেউ জিতেছেন ডিসি বাংলো কিংবা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে। এবারো এই ওয়ার্ডে খুব বেশি প্রার্থীর নির্বাচন করার তথ্য শোনা যাচ্ছেনা।
যদ্দুর তথ্য মিলছে,তাতে বর্তমান কাউন্সিলর পুলক কান্তি দে,সাবেক কাউন্সিলর নেয়াজ আহমেদ, ব্যবসায়ি বিমল বড়ুয়া,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কৃঞ্চ কুমার ঘোষ বাঁশি,মিল্টন বড়–য়া এবং আওয়ামীলীগ নেতা বিপ্লব দাশ মাইকেল এর কথাই শোনা যাচ্ছে। শুধু শোনাই যাচ্ছে,এমনটা নয়, মাঠেও বেশ সক্রিয় এই প্রার্থীরা।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানেও আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় পুলক কান্তি দে এবারো নির্বাচনে অংশ নিবেন,এটা নিশ্চিত। ব্যক্তিগত জীবনে ভদ্র ও বিনয়ী এই কাউন্সিলর,করোনাকালে মাঝেরবস্তির তরুণদের সাথে নিয়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে সহজেই মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করে নিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে এগিয়েই থাকবেন বিনয়ী হিসেবে পরিচিত পুলক।
এই ওয়ার্ডে ফের নির্বাচন করতে চান সাবেক কাউন্সিলর এবং সর্বশেষ নির্বাচনেও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়া নেয়াজ আহমেদ। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি এই তরুণ সফল ব্যবসায়ি। পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় নিজের হোটেল স্কয়ার পার্কে বসে জয়ের ছক কষছেন তিনিও। ইতোমধ্যেই নেমে পড়েছেন মাঠে। নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নেয়াজ, নিজের বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেও বিএনপির ফিক্সড ভোটও পাবেন। পুলকের সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নেয়াজকেই দেখা যাবে হয়ত ভোটের মাঠে।
বিমল বড়ুয়া ব্যবসায়ি হিসেবেই পরিচিত। এর আগেও নির্বাচন করেছেন। বিজয়ী হতে না পারলেও ব্যক্তিগত জীবনে সজ্জন এ সফল ব্যবসায়ি মনে করেন,তাকে নির্বাচিত করলে,এলাকার উন্নয়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ভূমিকা পালন করতে পারবেন। ভোটের মাঠে ইতোমধ্যেই নেমে পড়েছেন বিমল। আলোচিত চার প্রার্থীর মধ্যে সবচে সিনিয়র প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রবীণ ভোটারদের সমর্থন পেতে পারেন,সেই সাথে এই ওয়ার্ডে বসবাসকারি বড়–য়া জনগোষ্ঠিও তাকে একযোগে ভোট দিতে পারে ‘ধর্মীয় নৈকট্যে’র কারণে। যদি তাই হয় শেষাবধি,তবে বিমল বড়ুয়াও বিজয়ী হতে পারেন,ভোটের ক্যালকুলেশনে।
বিপ্লব দাশ মাইকেল। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা। আগেও ভোটে দাঁড়িয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিপ্লব, বর্তমান কমিটিরও সদস্য সচিব। গৌর নিতাই আশ্রম কমিটিরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দলীয় সমর্থন আর কর্মীদের শতভাগ সহযোগিতা যদি তিনি ঠিকঠাক পান,তবে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে সমানতালে লড়াই করতে পারবেন হয়তো।
নির্বাচন করতে মাঠে আছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কৃঞ্চ কুমার ঘোষ বাঁশি। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগে সাধারন সম্পাদক পদ প্রত্যাশী এই নেতা এলাকার তরুণদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়। নিজের বন্ধু,আত্মীয়স্বজন এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সমর্থন যদি ঠিকঠাক পান এবং সেটাকে পুরোদমে কাজে লাগাতে পারেন,তবে দিনশেষে তিনিও হতে পারেন বিজয়ী কাউন্সিলর।
নির্বাচন করতে চান ডিসি বাংলো রোডের বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা মিল্টন বড়ুয়াও। তরুণ এই ছাত্রলীগ নেতা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জিততে চান এবং ভূমিকা রাখতে চান,দৃশ্যত অবহেলিত এই ওয়ার্ডের উন্নয়নে। বয়স তার জন্য ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ না হলে, ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবেন এই তরুণও।
আপাতত এইসব প্রার্থীর কথাই শোনা যাচ্ছে মাঠে ঘাটে,চায়ের আড্ডায়। এদের মধ্যে চতুমুর্খী লড়াইয়ের সম্ভাবনা যেমন আছে,তেমনি আবারো সেই লড়াইটাই দ্বিমুখী হয়ে যেতে পারে,রাজনৈতিক কৌশলের কারণে। কিংবা নানামুখী ভোট ক্যালকুলেশনে শেষাবধি কে বিজয়ী হবে সেটাও বলা মুশকিল।
তবে এই ওয়ার্ডে ভোটের হিসাবে, পাহাড়ী ভোটের পাশাপাশি বাঙালী হিন্দু-মুসলিম-বড়ুয়া ভোটের ভিন্ন ভিন্ন দিকে ‘ধর্মীয় বাঁক’ নেয়া, এলাকাভিত্তিক ‘পাড়া প্রেম’,ভোটের মাঠ কতটা ‘পরিচ্ছন্ন ও নিরপেক্ষ’ থাকবে, এইসব বিষয়গুলো ভূমিকা রাখবে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে। আপাতত সেই পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
