১৯৯১ থেকে ২০১৪। সময়ের ব্যবধান ২৩ বছর। এই ২৩ বছরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি। এই পাঁচটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীই ছিলেন একজন। আর তিনি হলেন দীপংকর তালুকদার। যেখানে আরেক জাতীয় দল বিএনপি প্রতিটি নির্বাচনে একেক জন প্রার্থীকে ‘আমদানি’ করতে হয়, সেখানে গত পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে একচ্ছত্র প্রভাব এই নেতার। দশম সংসদ নির্বাচনের পর এবার একাদশ সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন শুধুমাত্র দীপংকর তালুকদারই। যেখানে দেশের অন্যান্য সংসদীয় আসনের জন্য ১০-১২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। সেখানে রাঙামাটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন একজন।
একাদশ সংসদ নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামীলীগের সাংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম বিক্রি শুরু করে ১০ নভেম্বর। ৩০০ আসনের জন্য গত চারদিনে ফরম বিক্রি হয়েছে চার হাজারের অধিক। একেকটি আসনে ১০-১২ জনের ওপর মনোনয়নপ্রত্যাশী। অনেক আসনে ১৫ এর ওপর মনোনয়নপ্রত্যাশীও ফরম সংগ্রহ করেছেন। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বীর বাহাদুরের আসনেও মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন নয়জন। অপর পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে নিয়েছেন প্রায় সাতজন। সেখানে রাঙামাটি আসনে আওয়ামীলীগের ফরম সংগ্রহ করেছেন মাত্র একজনই। আর তিনি হলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার। ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেসব আসনের জন্য ফরম নিয়েছেন আর দুই-এক নেতা ছাড়া সব আসনের জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক। সেখানে দলীয় সভানেত্রীর আসনের মত এই আসনেরও মনোনয়নপ্রত্যাশী একজনই।
এই আসনে আর কেউ মনোনয়ন না নেওয়ার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ‘এটা কি নেতাকর্মীদের আস্থা নাকি ভয়’ এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেন, এটা নেতাকর্মীদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছে এবং হয়তো তাদের সুখে-দুঃখে আমাকে পাশে পেয়েছে, তাই হয়তো আর কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, তার মোক্ষম জবাব দেওয়ার জন্য নেতাকর্মীরা মুখিয়ে আছে, তাই তো সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীকে আসনটি উপহার দেওয়ার জন্য তারা আমাকে যোগ্য বিবেচনা করেছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, যদি ভোট ডাকাতি না হয়, তবে অবশ্যই জয়লাভ করবো।
রাঙামাটি আওয়ামীলীগে কোনও বিভেদ নাই দাবি করে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা বলেন, এখানে কোনও ভয়ের ব্যাপার না। দাদা’কে ভালোবেসে ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের কারণে এই আসনে অন্য কেউ প্রার্থী হননি। যেহেতু দীপংকর তালুকদার পাহাড়ের ঐক্যের প্রতীক আর তাঁর নেতৃত্বে রাঙামাটি আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে, তাই এই আসনে তাঁর বিকল্প কেউ নেই। যতদিন তিনি মনোনয়ন চাইবেন, ততদিন এই আসনে অন্য কেউ মনোনয়ন চাইবেন না বলেও দাবি করেন এই ছাত্র নেতা।
দল হিসেবে রাঙামাটি আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ দাবি করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেছেন, দাদা’র প্রতি ভালোবাসার কারণে এই আসনে আর অন্য কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। তিনিই আমাদের অভিভাবক। তাঁর নেতৃত্বে আমরা ভোটযুদ্ধে নামবো এবং ইনশারøাহ আমরাই বিজয়ী হবো।
