নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই ॥
কাপ্তাইয়ের দুর্গম পাহাড়ে বন বিভাগ বিট প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ প্রায় দেড়শ বছর পর নির্মাণ করল মসজিদে কুবা। রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে বনপ্রহরীদের নামাজ আদায়ের মসজিদে কুবা নির্মাণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত কর্ণফুলী রেঞ্জের কাপ্তাই মুখবিট অবস্থিত। এই বিটটি ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিটটি ২ হাজার ২শ’ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে। দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহি সবুজ গাছ ও জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই বিট। বিশাল বনভূমি পাহারা দেওয়ার জন্য বিটে কর্তব্যরত বনপ্রহরীরা দায়িত্ব পালন করলেও নামাজ আদায়ে দীর্ঘ বছর ধরে কোন সুব্যবস্থা ছিল না। ছিল একটি জরাজীর্ণ পাঞ্জেখানা। বিট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে দৈনিক পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায় করত। কিন্তু প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে হয় তাদের। এত দূরে গিয়ে অনেকে জুমার নামাজ আদায় করতে পারতো না। দুর্গম এই বিটের বিশালতা ও মনোমুগ্ধকর সবুজ বেষ্টনী দেখতে পরির্দশন করেন সাবেক বনমন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বন সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, ডিসিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ। এখানে নামাজ আদায়ের কোন সুবিধা না থাকায় তারা সকলেই হতবাক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘ ১৫৭ বছর পর নতুনভাবে নির্মাণ করা হয় এই মসজিদ।
কাপ্তাই মুখবিট কর্মকর্তা কবির আহমদ জানান, ঐতিহ্যবাহি এই বিটে আমরা দায়িত্ব পালন করছি ২২ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী। কিন্তু নামাজ বা জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ইতিপূর্বে ইমামের কোন ব্যবস্থা ছিলো না। বর্তমান বন বিভাগ ইমাম নিয়োগ করায় জুমার নামাজ ও রমজান মাসে তারাবি আদায় করতে পারছি।
কাপ্তাই কর্ণফুলী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘ দেড়শ বছর যাবৎ এখানে কোন মসজিদ ছিলো না। একটি পুরাতন জরাজীর্ণ পাঞ্জেগানা ছিল। কোন ইমাম ছিলো না। বর্তমান রাঙামাটি বন সার্কেল সুবেদার ইসলাম (সিএফ) ও দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা ছালেহ মো. শোয়াইব খানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুনভাবে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এছাড়া এখানে একজন ইমাম নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত নামাজ ও রমজান মাসে তারাবি আদায় করা হচ্ছে। এই মসজিদের নাম দেয়া হয় মসজিদে কুবা। গত ১৮ মার্চ ২২ বন সার্কেল সুবেদার ইসলাম (সিএফ) উদ্বোধনীর মাধ্যমে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।
