সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে ১৫০ শয্যা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নির্মাণ কাজ। ১০ উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে হাসপাতালে বেড সংখ্যা বাড়ানোর দীর্ঘদিনের দাবি খুব দ্রুতই নির্মাণ কাজ শুরুর মাধ্যমে আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ কাজ শেষে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটির মানুষের চিকিৎসার জন্য ৫০ শয্যার চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে সিভিল সার্জন অফিস সংলগ্ন পুরাতন হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালটির আধুনিকায়ন ও ১০০ শয্যা বৃদ্ধি লক্ষ্যে বর্তমান হাসপাতাল এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৮৪ সালে ২৯ জুন হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই বছর নির্মাণ কাজ শেষে ১৯৮৬ সালের ১৮ জুন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে এই হাসপাতালেও রোগী ধারণ ক্ষমতার বেশি হওয়ায় সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। যাবতীয় কার্যক্রম শেষে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে যে কোনও দিন।
এ ব্যাপারে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার জানান, নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করার যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, যে কোন সময় ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, রাঙামাটি হাসপাতালের নতুন ভবনটি বর্তমান সংক্রামকব্যাধি ভবন ভেঙ্গে নির্মাণ করা হবে, সেখানে কয়েকটি গাছ কাটা পড়বে সেগুলো কাটার অনুমোদন হয়ে গেছে, এবং গাছ কাটার টেন্ডার করে ঠিকারদারকে কার্যাদেশও দিয়ে দেয়া হয়েছে।
ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে সিভিন সার্জন বলেন, নতুন হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জামাদি প্রকল্প এলাকায় নিয়েও এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণ কাজ পরিচালনা করবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
তিনি আরও বলেন, আমি যতটুকু জানি প্রাথামিকভাবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু করা হচ্ছে, তবে এ বরাদ্দ দিয়ে কাজ শেষ হবে না, তবে পরে রিভাইস করে আরো বরাদ্দ বাড়ানো হবে বরে শুনেছি, তবে মোট কত টাকা ব্যয় করা হবে তা গণপূর্ত অধিদপ্তর বলতে পারবে।
সিভিল সার্জন বলেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন হবে আট তলা বিশিষ্ট। ফলে রাঙামাটিবাসী চিকিৎসা সেবা পাবার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এখানে কিডনি বিভাগ, বার্ন বিভাগ, হৃদরোগ বিভাগ, আধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ সব কিছুই চালু করা হবে। পাশাপাশি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে আগত সকল শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাবে। আশা করি রোগীর অবস্থা অতি সংকটাপন্ন না হলে অন্যত্র প্রেরণ করতে হবে না।
নতুন ভবনের বাজেটের বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সানাউল্লাহ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
