জিয়াউল জিয়া/শুভ্র মিশু
রাঙামাটির বেড়াতে এসে কাপ্তাই হ্রদে নৌ বিহারে গিয়ে হ্রদে ভেসে উঠা টিলায় (ডুবোচর) আটকে পড়া চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস বিভাগের ১৭৫ শিক্ষার্থী, নিজেদের উদ্ধার করতে সক্ষম হলো পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে। আটকে পড়ার প্রায় সাড়ে তিনঘন্টা পর মুক্তি মিলে তাদের।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা রাঙামাটি কাপ্তাই লেকে বেড়াতে আসেন। কাপ্তাই হ্রদ পানি কম থাকায় ছোট্ট ছোট্ট টিলাগুলো ভেসে উঠে, এমনই এক টিলায় আটকে যায় তাদের বহনকারি লঞ্চটি।
চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস বিভাগের মাস্টাসের ছাত্র সিরাজুল আমি সাদ্দাম হোসেন জানান, আমরা সুবলং থেকে পুলিশের পলওয়ের পার্কে যাওয়ার সময় একটি চরের মত জায়গায় লঞ্চটি আটকে যায়। ছাত্ররা ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে লঞ্চকে নামানোর চেষ্টা করেও কিছু হচ্ছিলো না। এদিকে সন্ধ্যা নেমে আসার সবাই ভয়ে পেতে শুরু করছিলো। এমন ৯৯৯ কল দিলে কোতয়ালী থানার পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম কলেজের ইতিহাস বিভাগের আরেক ছাত্রী সামশুন নাহার বলেন, দিনের আলো থাকায় তখন ভয় পাইনি। যখন সন্ধ্যা নেমে আসছে তখন ভয় পাচ্ছিলাম। কি হবে। বাড়ি ফিরতে পারবো কিনা। চারদিকে পানি আর পানি। অন্ধকারের কারনে কোন দিকে কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। পরে পুলিশ যাওয়াতে মনে স্বস্তি পাই। আল্লাহর রহমতে সুস্থভাবে ঘাটে ফিরতে পেরেছি। পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।
চট্রগ্রাম সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আবু তাহের ভূঁইয়া জানান, আমরা হ্রদের তীরবর্তী বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরতে বের হলে ফোর সময় লঞ্চটি চরে আটকা পরে। দীর্ঘ সময় পরও লঞ্চটি চর থেকে বের হতে না পারলে আমরা চিন্তিত হয়ে পরি তখন আমাদের একজন শিক্ষার্থী ৯৯৯ এ ফোন করে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে কোতোয়ালি থানা থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং আমাদের লোকেশন জেনে আমাদের উদ্ধারে উপস্থিত হন এবং অন্য একটি লঞ্চযোগে আমাদের নিয়ে আসেন। আমরা এখন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা দিচ্ছি। আমরা সকলে সুস্থ আছি।
রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল আমিন জানান, পুলিশ সুপার মহোদয় ফোনে বিষয়টি বলার পর আমি ও আমার এএসপি সার্কেল স্যার দ্রুত একটি টিম নিয়ে তাদের উদ্ধারে বের হয়ে পড়ি। অন্ধকার হওয়ার কারনে তাদের খুজে পেতে কিছুটা সময় লাগে। লঞ্চে থাকা ১৭৫ জন সবাই সুস্থ্য আছে। কি কারনে লঞ্চটি চরে আটকে গেলো এবং এখানে লঞ্চ মালিক ও দায়িত্বশীল কারো কোন গাফিলতি ছিলো কিনা সেটাও আমরা খতিয়ে দেখবো।’
