৩ লক্ষ টাকার জরিমানা প্রদান না করলে সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
জিয়াউল জিয়া
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় মামলায় এক আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এ.ই. এম ইসমাইল হোসেন এ দন্ড দিয়েছেন। একইসাথে আসামীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় আদালত। এসময় আদালেত উপস্থিত ছিলেন আসামী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল মাসে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় শরৎ তনচংগ্যা। এদিন সকাল ১১টার দিকে দেবাছড়া এলাকায় আসামি ওই স্কুলছাত্রীকে পিছন থেকে জাপটে ধরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও চুল ধরে দেবাছড়া ছড়ার দিকে নিয়ে যায়। এসময় ধর্ষণ চেষ্টা চালালে ভিকটিম চিৎকার করলে কয়েকজন এগিয়ে আসলে আসামি পালিয়ে যায় এবং তারা ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পরদিন ১৩ এপ্রিল ভিকটিমের বাবা কাপ্তাই থানায় মামলা করেন। এ মামলায় আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা দন্ড আদালত। রায়ে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আসামীকে জরিমানার অর্থ বিধি মোতাবেক জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন। পরিশোধিত জরিমানার অর্থ ভিকটিম এর পিতা মাতা ও সন্তানের প্রতি আসামির কৃত ক্ষতি পূরণ হিসেবে প্রাপ্ত হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমান পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নারী ও শিশু নির্যাতন দম আইন এর অনুসরণ পূর্বক বিধি মোতাবেক শরৎ তনচংগ্যা অধীনে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।
রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল হওয়াতে দ্রুত রায় হচ্ছে। এতে এই ধরনের অপরাধ কমে আসবে বলে আশার কথা জানান তিনি।
