সুব্রত, তোমার স্ত্রী’র জন্য একটি চাকরির সুপারিশ রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি। যতবার নিয়োগ দিয়েছিলো ততবার ফোন করেছো, একটি সুপারিশের জন্য। তোমার পরিবারের অভাব অনটন ও কষ্টের কথা প্রায় সময়ই বলতে। কিন্তু চক্ষু লজ্বায় মুখ ফুটে টাকা’র কথা বলতে পারতে না আমার সামনে। তোমার মনের ভিতর গুমোট বাঁধা চাপা কষ্টের ভাব দেখে মাঝে মাঝে হাঁসি ফুঁটানোর চেষ্টা করেছি।
বড়ই দুর্ভাগ্য, তোমার বুকফাটা আর্তনাদ, তোমার কষ্টের ভাগ নিতে পারিনি। রাজনৈতিক মতাদর্শ এক না হলেও তোমার সাথে একটা সম্পর্ক ছিল গভীরের। বাঘাইছড়িতে তুমি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নিবেদিত প্রাণ ছিলে। তোমার দলের দুর্যোগ সময়ে সাহসী ভুমিকা পালন করতে দেখেছি স্বচক্ষে। দলের কাজ করতে গিয়ে হামলা, মামলা,র শিকার হয়েছিলে অন্যদের তুলনায় তুমি বেশী। তোমাকে অনেক নেতার লাটিয়াল বাহিনীর অগ্রনী ভুমিকায় দেখেছি। তোমার অনেক নেতাই তোমার উপর ভর করে দলের কাছে সুনাম কুড়িয়ে নিতে দেখেছি। 

কিন্তু, দলের সুসময়ে কি পেলে ? তোমার দল এখন ক্ষমতাসীন। তোমার দল এখন রাস্ট্রীয় ক্ষমতায়। অথচ, নববর্ষের এই দিনে তুমি মরে গেলে তোমার দলের অবহেলার শিকার হয়ে মায়ের সাথে অভিমানে আত্নহত্যা করে। দল হারালো নির্লোভ একজন নিবেদিত কর্মীকে আর স্ত্রী হারালো স্বামীকে ছেলে হারালো বাবাকে। পরপারে ভাল থাকিস ভাই।
লেখক : জুপিটার চাকমা,স্টাফ সদস্য,পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’র এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া
(জুপিটার চাকমা। এককালের তুখোড় সাংবাদিক। একটি জাতীয় দৈনিকের বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি হিসেবে দুর্দান্ত সব প্রতিবেদন করেছেন একটা সময়। এখন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র স্টাফ সদস্য। গত ভোররাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করা বাঘাইছড়ি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুব্রত বড়ুয়াকে নিয়ে একটি স্মৃতিকাতর ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সেই পোস্টটি আমাদের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো )
