খাগড়াছড়ির গুইমারায় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগি নারী (৩৭) অভিযুক্ত সাগর চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুইমারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে আসামী পলাতক রয়েছে।
অভিযুক্ত সাগর চৌধুরী (৩৫) গুইমারা দার্জেলিং টিলার মৃত নিরঞ্জন চৌধুরীর ছেলে। সে গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারি কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর ও গলাটিপে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সর্বশেষ তুলে নিয়ে ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগি নারী গুইমারার বুদং পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ইউনিসেফ পরিচালিত একটি পাড়াকেন্দ্রর শিক্ষকতা করেন।
স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাগর ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছেন। গত রবিবার(১৮ এপ্রিল) ঘটনার দিন বিকালে গুইমারার মুসলিম পাড়া নামক এলাকায় পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষকদের একটি সভা ছিল। সভা শেষে বাড়ী ফেরার পথে কংক্য মাষ্টারের বাড়ীর পাশের কালভার্ট থেকে মোটরসাইকেলযোগে সাগর এক সহযোগীসহ এসে ওই নারীকে নিজ বাসায় তুলে নিয়ে যায়।
সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এতে ওই নারী রাজী না হয় তাকে লোহার রড দিয়ে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগি চিৎকার করলে সাগর পালিয়ে যায়। পরে তার ভাই এসে উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে চিকিৎসা করান। এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গুইমারা থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
গুইমারা থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কলহের জেরে সাগর চৌধুরী তার স্ত্রী পিংকি চৌধুরী(২৫)কে মারধর এবং গলাটিপে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার এক বছর আগে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে সাগর পিংকিকে বিয়ে করে। সেই ঘটনায় আসামী সাগর দীর্ঘদিন জেলে আটক ছিলেন।
