মো. ইসমাইল, পানছড়ি
সাঁওতালি বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে বই প্রণয়ন, সাঁওতালি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু ও সাঁওতালি ভাষার শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে খাগাড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে পানছড়ি উপজেলা সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন সাঁওতাল নেতৃবৃন্দরা। এসময় স্মারকলিপির পাশাপাশি ‘এসো সাঁওতালি বর্ণমালা শিখি’ বই তুলে দেন জেলা প্রশাসকের হাতে। স্মারকলিপির মাধ্যমে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর নিকট সাঁওতালের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
স্মারকলিপি হতে জানা যায়, ঝরে পড়া সাঁওতাল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার কথা চিন্তা করে ২০১০ সালের প্রণীত শিক্ষানীতিতে সরকারিভাবে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলা হয়। ২০১৩ সালের শুরুতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হয়ে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে জনসংখ্যার দিক থেকে বেশি প্রচলিত ছয়টি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়। কিন্তু চাকমা, মারমা, ককবরক, মান্দি ও সাদরি ভাষায় পাঠ্যবই তৈরি হলেও বর্ণমালা বিতর্কের কারণে আটকে যায় সাঁওতালি ভাষার বই। এখনও এর সমাধান হয়নি। এটা সাঁওতালি ভাষা ও সাঁওতাল শিশুদের জন্য দুঃখজনক।
বর্ণমালা বিতর্কের কারণ হলো সাঁওতালরা নিজস্ব বর্ণমালা (অলচিকি) দিয়ে সাঁওতালি ভাষার বই প্রকাশের দাবি করলেও খ্রিষ্টান-মিশনারিরা রোমান বর্ণমালায় বই প্রকাশের দাবি জানায় এবং আর একটি পক্ষ বাংলা বর্ণমালায় বই প্রকাশের দাবি জানায়।
এসময় বাংলাদেশের সাঁওতালদের পক্ষে মানিক মুরমু ও মিন্টু কিস্কু স্বাক্ষরিত পত্রে সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ফোরাম ও সাঁওতাল উন্নয়ন সংসদের আহ্বায়ক মানিক মুরমু, যুগ্ম আহ্বায়ক মিন্টু কিস্কু, যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ মুরমু, প্রচারক সম্পাদক ফাল্গুনী সরেন উপস্থিত ছিলেন।
