রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় বিআরডিবি নির্বাচনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ‘বাধা সৃষ্টি’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক বরাবর ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন আবুল মনছুর নামের ওই প্রার্থী।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে বিআরডিবি নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী আবুল মনছুর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কলমপতি মৌজার মেম্বার পাড়া কে এস এস সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবি সমিতির বর্তমান সভাপতি হই। আসন্ন বিআরডিবি নির্বাচনে পুনঃরায় প্রার্থী হওয়ার জন্য গত রোববার সভাপতি পদে নির্বাচন করার নিমিত্তে মনোনয়ন ফি বাবদ সোনালী ব্যাংক কাউখালী শাখায় ৩ হাজার টাকা জমা প্রদান করেছি। কিন্তু গত রোববার নির্বাচন কমিশনার হইতে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করতে গেলে আমার প্রতিপক্ষ সভাপতি প্রার্থীর ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ কারণে নির্বাচন কমিশনার হতে শত চেষ্টা করেও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পারিনি।’
‘আগামী ৫ নভেম্বর তারিখে অত্র সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আইন মোতাবেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে প্রাক্তন সভাপতি হতে দায়িত্বগ্রহণ করার পর নব নির্বাচিত সভাপতি অত্র কার্যালয় ও আসন বুঝে পান। কিন্তু পরিতাপের যে, আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী গত রোববার সকাল ১০টার দিকে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করে সমিতির কার্যালয়ে এসে সভাপতির ‘চেয়ারে বসে হৈ হাল্লা’ শুরু করেন। যেন সে একজন নির্বাচিত দায়িত্ব গ্রহণকারী সভাপতি।’- অভিযোগে যোগ করেন তিনি।
অভিযোগে মনছুর আরও বলেন, ‘গতকাল সোমবার ছিলো মনোনয়ন পত্র গ্রহণের শেষ দিন। এই অবস্থায় শেষ দিনেও নির্বাচন কমিশনার হতে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করতে দিচ্ছেনা। তাঁর এহেন কর্মকর্তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বেমানান। যা একনায়নতন্ত্রের প্রতীয়মান।’
সভাপতি প্রার্থী আবুল মনছুর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী সরকার দলীয় ক্যাডারদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন পত্র গ্রহণের শেষ দিনেও আমাকে মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করতে দেয়নি। আমি বর্তমানে এই সমিতির সভাপতি দায়িত্বে আছি। এর আগের নির্বাচনেও তিনি আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি করেছিলেন। তখনও তাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে আমি বর্তমান নির্বাচিত হই।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী এবারও নির্বাচনে আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়ার ভয়ে সরকারদলীয় কেডারদের সাথে নিয়ে গণতন্ত্র বিরোধীভাবে একা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে সমিতির সভাপতি হওয়ার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আমাকে মনোনয়ন পত্রগ্রহণ করতে দেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত পত্র দিয়েছি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ সভাপতি প্রার্থী বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘উনি তো সভাপতি থাকাকালীন সময়ে ১০টির মতো সমিতির ভোটার বাতিল করেছে; হয়ত ওই সমিতির নেতারা তাঁর সাথে এসব ব্যাপারে কিছু জানতে চেয়েছেন। আমি এর আগের নির্বাচনে তাঁর কাছে পরাজিত হয়ে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। এখানে একনায়কতন্ত্রের কিছু নেই।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি তো আজ কাউখালীতেই আসেননি। তাকে আমরা বাধা দিবে কীভাবে? উনি নিজে ভুল করেছেন; এখন বিষয়টিকে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা প্রতিষ্ঠান না। এটা সবার সমন্বয়ে গঠিত সমিতি। এটাকে নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু সৃষ্টি করছেন উনি। এটা ঠিক না।’
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আশরাফুল রুমি’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। পরে আবারও চেষ্টা করা হলেও প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারী আজ কেন মনোনয়ন পত্র নিতে আসেননি। আর এই ব্যাপারে আপনারা অন্যদের সাথে কথা বলেন।’
উল্লেখ্য যে, অভিযোগকারী সভাপতি প্রার্থী আবুল মনছুর কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আর যার বিরুদ্ধে বাধা প্রদানের অভিযোগ সেই বেলাল উদ্দিন কাউখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক।
